শুক্রবার
৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারীকে ঘুষ না দেওয়ায় ফেরত গেল ভাতার টাকা

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত।
expand
ছবি : সংগৃহীত।

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা প্রধান সহকারী ও ভারপ্রাপ্ত ক্যাশিয়ার বাবুল হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি, দাপ্তরিক কাজে অনিয়ম, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি, পদোন্নতির যোগ্যতা যাচাই এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে যৌথ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৮৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মাঠ পর্যায়ের তিনজন কর্মচারীর শ্রান্তি বিনোদন ছুটি ও ভাতা মঞ্জুর হয় এবং আরও তিনজন একই সুবিধার জন্য আবেদন করেন। সংশ্লিষ্ট খাতে সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বাবুল হোসেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে অর্থ আনতে অতিরিক্ত খরচের কথা বলে অর্থ দাবি করেন । তাঁর চাহিদা মত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় অনুমোদিত ভাতার বিল প্রক্রিয়াজাত এবং অন্য আবেদনগুলোরও কোনো অগ্রগতি করেননি তিনি। ফলে জুন মাসের ক্লোজিং শেষে বরাদ্দের অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত যায় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা প্রাপ্য ভাতা থেকে বঞ্চিত হন।

এদিকে বাবুল হোসেন প্রথমে এমএলএসএস পদে চাকরিতে যোগদান করেন এবং পরে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে পদোন্নতি পান। তিনি কম্পিউটার পরিচালনা ও টাইপিংয়ে প্রয়োজনীয় দক্ষতা রাখেন না। সরকারি বিধি অনুযায়ী কম্পিউটার অপারেটর পদে পদোন্নতির জন্য নির্ধারিত প্রশিক্ষণ ও টাইপিং দক্ষতা প্রয়োজন হলেও তাঁর ক্ষেত্রে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না সে বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগকারীরা আরও বলেন, প্রয়োজনীয় দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও বাবুল হোসেন বর্তমানে প্রধান সহকারী ও সাময়িক ক্যাশিয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুটি দায়িত্ব পালন করছেন, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সেবার মান নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী বাবুল হোসেন জানান, বিনোদন ভাতা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিলো না। কাগজ ঠিক করে আবার নতুন করে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই নতুন বরাদ্দ পাওয়া যাবে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কামাল বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে অফিস সহকারীর কাছে জবাবদিহি চাওয়া হয়েছিলো। তিনি জবাব দিয়েছেন, সেটি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন আনিসুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন