

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আর একদিন পরেই মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। প্রতিবছর এই সময় রাজশাহীর আমের বাজারে থাকে জমজমাট বেচাকেনা। তবে এবার চিত্র ভিন্ন। কোরবানির ঈদ ঘিরে আমের বাজারে দেখা দিয়েছে মন্দাভাব।
পাইকার কম, বিক্রি কম ফলে আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। বাজারে আম উঠলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত দাম।
চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার ৬ মেট্রিক টন। গত বছরের মতো এবারও ফলন ভালো হলেও বাজারদর নিয়ে হতাশ চাষিরা।
রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের বাজার বানেশ্বর হাট ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে এখন গোপালভোগ ও গুটি জাতের আমের আধিপত্য। তবে গত দুই বছরের তুলনায় মণপ্রতি দাম কমেছে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর এই সময়ে গোপালভোগ আম বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। আর ২০২৪ সালে একই আমের দাম উঠেছিল ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত। এবার সেই গোপালভোগ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১ হাজার ৬০০ টাকা মণে। অন্যদিকে গুটি আম বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায়।
এখনও বাজারে ওঠেনি খিরসাপাত বা হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি ও ফজলির মতো জনপ্রিয় জাতগুলো। অনেক চাষি ও ব্যবসায়ী ভালো দামের আশায় গাছ থেকে আম নামানোও বিলম্ব করছেন।
বানেশ্বর বাজারের আড়তদার মো. আসাদুল্লাহ বলেন, গতবারের মতো এবারও আমের বাজারে মন্দাভাব। কোরবানির ঈদের কারণে বাইরের পাইকার কম আসছেন। ইদের পর বাজার কিছুটা চাঙ্গা হতে পারে।
বাঘা উপজেলা থেকে আম বিক্রি করতে আসা চাষি আলাউদ্দিন বলেন, এবার আমের আকার ও স্বাদ ভালো হয়েছে। কিন্তু দাম নেই। গত বছর যে গোপালভোগ ৩ হাজার টাকা মণে বিক্রি করেছি, এবার ২ হাজার টাকাও পাওয়া কঠিন।
আরেক আড়তদার শামিম জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বাজারে পাইকারের উপস্থিতি অর্ধেকেরও কম। ঈদের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।
বানেশ্বর হাটের ইজারাদার জাকির হোসেন সরকার বলেন, এবার উৎপাদন ভালো হলেও কোরবানির ঈদের কারণে আমের বাজারে ধস নেমেছে। বাইরের ব্যবসায়ীরা এখন আম কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তবে ঈদের পর বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ঈদের পর যখন ল্যাংড়া, হিমসাগর, আম্রপালিসহ সব ধরনের আম পুরোদমে বাজারে আসবে, তখন বাইরের পাইকারদের আনাগোনাও বাড়বে। এতে চাষিরা ন্যায্যমূল্য পেতে পারেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।