

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজশাহী অঞ্চলে শিশুদের মধ্যে অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। হাসপাতালগুলোতে উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের নমুনা পরীক্ষা করে রোগটির উপস্থিতি নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীদের আলাদা করে চিকিৎসা না দেওয়ায় সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ছে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বিভাগের সাতটি সদর হাসপাতাল ও চারটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পরীক্ষা করছে। রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক জানান, ১৮ মার্চ পর্যন্ত ১৫৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, যা প্রায় ২৯ শতাংশ।
রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু ভর্তি শুরু হয়। আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হলেও বাস্তবে তা সব জায়গায় মানা হচ্ছে না।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ শিশু ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ থাকা শিশুদের সাধারণ রোগীদের সঙ্গে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্য শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ, যা হাঁচি-কাশি ও সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। এর জটিলতায় নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখ ও মস্তিষ্কে প্রদাহসহ মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গুরুতর অসুস্থ শিশুদের আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও শয্যা সংকটের কারণে অনেককে সময়মতো স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না। রাজশাহী মেডিকেলের শিশু আইসিইউতে শয্যা সংখ্যা মাত্র ১২টি।
সম্প্রতি কয়েকটি শিশুর মৃত্যুও হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে শয্যা সংকট ও দেরির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে, রাজশাহীর বেসরকারি হাসপাতাল (Barind Medical College Hospital)-এও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু ভর্তি হওয়ার সংখ্যা বেড়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনেক শিশুর মধ্যেই হামের লক্ষণ পাওয়া যাচ্ছে এবং লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসায় অনেকেই সুস্থ হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজশাহী বিভাগের আট জেলাতেই হাম ছড়িয়ে পড়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি ও নমুনা পরীক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন