

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চলমান জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের পেঁয়াজ বাজারে। পরিবহণ সংকটে রাজধানীসহ বড় মোকামগুলোতে পেঁয়াজ পাঠাতে না পারায় রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের হাটবাজারে অস্বাভাবিক দরপতন ঘটেছে। এতে চরম লোকসানে পড়েছেন চাষিরা।
শুক্রবার রাজশাহীর বাগমারা, পুঠিয়া ও দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে মানভেদে প্রতি মন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়। সে হিসেবে চাষিরা প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন প্রায় পৌনে ৪ থেকে ৫ টাকায়। অথচ খুচরা বাজারে একই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে।
চাষিরা জানান, মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও প্রতি মন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকায়। হঠাৎ এমন দরপতনে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
রাজশাহীর বাগমারার চাষী আফসার আলী বলেন, “গত ১৫ বছরেও এমন কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হয়নি। হাজার হাজার চাষি পুঁজি হারিয়ে পথে বসার উপক্রম।”
চাষিদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি মন পেঁয়াজ হাটে আনতে পরিবহণ খরচ ৩০ টাকা এবং খাজনা ৩০ টাকা দিতে হয়। ফলে ১৫০-২০০ টাকায় বিক্রি করে হাতে থাকছে মাত্র ১৩০-১৪০ টাকা। অথচ প্রতি মন পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ হয়েছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা।
বাগমারার সোনাডাঙ্গা গ্রামের চাষি সুজন কুমার জানান, ৬ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করে তার খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। শুক্রবার ৫৫ মন পেঁয়াজ বিক্রি করে পান মাত্র ৭ হাজার ৭০০ টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে হাতে থাকে ৪ হাজার ৪০০ টাকা।
তিনি বলেন, “মোকামে বাইরের ব্যাপারি আসছে না। পেঁয়াজ বেশি দিন ঘরে রাখা যাচ্ছে না, তাই বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করছি।”
চালানি ব্যাপারিরাও বলছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহণ না পাওয়ায় তারা পেঁয়াজ কিনতে পারছেন না। তাহেরপুর মোকামের ব্যবসায়ী মোকসেদ আলী প্রামাণিক জানান, “হাটে প্রচুর পেঁয়াজ উঠছে, কিন্তু ট্রাক না থাকায় ঢাকায় পাঠানো যাচ্ছে না।”
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে ২১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩২ হাজার ৩০০ টন। ভালো ফলন হলেও বাজারে সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ায় এর সুফল পাচ্ছেন না চাষিরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংরক্ষণাগারের অভাব ও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীরা কম দামে পেঁয়াজ কিনে মজুত করছেন। পরে বাজারে সরবরাহ কমে গেলে তারা বাড়তি দামে বিক্রি করেন।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান বলেন, “পেঁয়াজ পচনশীল হওয়ায় ভরা মৌসুমে দাম পড়ে যায়। সংরক্ষণের সীমাবদ্ধতা ও জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে।”
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আফিয়া আকতার জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে কৃষিপণ্য পরিবহণ ব্যাহত হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দ্রুত বাজার স্বাভাবিক না হলে চাষিদের বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন