

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার সুখচর ইউনিয়নে অবস্থিত হেদায়েত হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি অংশ ঝড়ের কবলে ধসে পড়েছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এসে ধ্বসে পড়া ভবনের বিপর্যস্ত দৃশ্য দেখতে পায়। এর আগের দিন রোববার সন্ধ্যায় আকস্মিক ঝড়ের আঘাতে বিদ্যালয়ের টিনসেডের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। বর্তমানে ছোট চারটি কক্ষে সকল শ্রেণির শিক্ষার্থী ধারণ সম্ভব না হওয়ায় অনেকেই খোলা আকাশের নিচে ও গাছের ছায়ায় সময় কাটাতে বাধ্য হচ্ছে।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৪ সালে সমাজসেবক হেদায়েত হোসেন সুখচর ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। এলাকাটির একমাত্র উচ্চ বিদ্যালয় হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এখানকার শিক্ষার মূল কেন্দ্র হিসেবে এটি কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। ২০২২ সালে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে ১১ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং ৫ জন গেস্ট শিক্ষক এখানে দায়িত্ব পালন করছেন। নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ায় ২০২১ সালে বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস বুড়িরচর ইউনিয়নের গুল্যাখালী এলাকায় স্থানান্তর করা হয়, যেখানে পাঁচতলা ভবন নির্মিত হয়েছে। মূল ক্যাম্পাসে প্রায় ২০০ এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।
বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. হাসিব বলেন, “হঠাৎ করে ভবনটি ধসে পড়েনি। দীর্ঘদিন ধরে এটি অবহেলিত অবস্থায় ছিল। ভবনটি একদিকে হেলে ছিল। প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম কচি কোনো সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় সামান্য ঝড়েই টিনসেড অংশ ভেঙে পড়ে।”
আরেক সাবেক শিক্ষার্থী মো. রাফি অভিযোগ করে বলেন, “গত পাঁচ বছরে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম কচি এই ক্যাম্পাসে তেমন কোনো উন্নয়ন করেননি। জরাজীর্ণ অংশ সংস্কারে অবহেলার ফলেই আজ এ অবস্থা।”
স্থানীয়রা জানান, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়বে। হাতিয়া উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম কচির মুঠো ফোনে একাধিক বার কল দেওয়া হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, “সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে কথা বলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সময় পেলে আজই সরেজমিনে গিয়ে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করব।”
বিদ্যালয়ের অবস্থা নিয়ে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। সকলের দাবি—দ্রুত সংস্কার করে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম নিশ্চিত করা হোক।
মন্তব্য করুন