মঙ্গলবার
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রার্থীর পক্ষে ফেসবুক পোস্ট করে বিপাকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ​

নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
নোয়াখালী-৪ আসনের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা
expand
নোয়াখালী-৪ আসনের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে নোয়াখালী-৪ আসনের এক সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তার নাম মো. আক্তার হোসেন, যিনি বর্তমানে জনরোষ ও প্রশাসনিক তদন্তের মুখে পড়েছেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) অভিযুক্ত কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে বিভিন্ন ভিডিও ও পোস্ট শেয়ার করতে দেখা যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাধারণ ভোটার ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

​মো. আক্তার হোসেন সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি নোয়াখালী-৪ আসনের একটি কেন্দ্রে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত। তার ব্যবহৃত ‘এমডি আক্তার হোসন’ নামের ফেসবুক আইডিতে দেখা যায়, তিনি ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধেও বিভিন্ন নেতিবাচক পোস্ট করেছেন।

​নির্বাচনী কাজে সরাসরি যুক্ত একজন কর্মকর্তার এমন পক্ষপাতমূলক আচরণে ভোটের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। মো. হোসেন নামে এক ভোটার বলেন, "যিনি নিজেই প্রার্থীর হয়ে প্রচারণা চালান, তিনি কীভাবে কেন্দ্রে নিরপেক্ষভাবে ভোট গ্রহণ করবেন? আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে তার অপসারণ দাবি করছি।"

​বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক আক্তার হোসেন প্রচারণামূলক পোস্টের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, "বিষয়টি আমার ভুল হয়েছে। আমি এজন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাচ্ছি। এখন থেকে আর এ ধরনের কোনো পোস্ট করব না।" তবে সরাসরি মাঠে গিয়ে প্রচারণার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান বলেন, "বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং আমরা তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষককে দ্রুত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।"

​জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম জানান, নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারেন না। এটি সরাসরি নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X