শনিবার
০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নীলফামারীতে ১০০০ শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতালের কাজ শুরু

নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম
নীলফামারীতে ১০০০ শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতালের কাজ শুরু
expand
নীলফামারীতে ১০০০ শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতালের কাজ শুরু

উত্তরবঙ্গের চিকিৎসাসেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে নীলফামারীতে নির্মিত হতে যাচ্ছে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল’। প্রায় ২ হাজার ২৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই মেগা প্রকল্পের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

শনিবার (৯ মে) নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল এলাকায় প্রকল্পস্থল পরিদর্শন ও কারিগরি সমীক্ষা পরিচালনা করে একটি উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধি দল।

শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রতিনিধি দলের নেতা ডং লি’র নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি কারিগরি দল নির্ধারিত প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়। তারা হাসপাতাল নির্মাণের জন্য নির্ধারিত ২৫ একর জমির ভৌত অবস্থা, অবকাঠামোগত সম্ভাবনা ও কারিগরি সক্ষমতা যাচাই করেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে চীন সরকার প্রায় ২ হাজার ২১৯ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ফাতেমা তুজ জোহরা সাংবাদিকদের জানান, প্রকল্পের আওতায় ২৫ একর জমির ওপর ১০ তলা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ডরমেটরি, আবাসিক ভবন, ডিরেক্টরস বাংলোসহ প্রয়োজনীয় সহায়ক অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। হাসপাতালটিতে স্থাপন করা হবে আন্তর্জাতিক মানের অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালের মোট ১ হাজার শয্যার মধ্যে ৫০০টি সাধারণ রোগীদের জন্য এবং বাকি ৫০০টি বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, “এই হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি নেফ্রোলজি, কার্ডিওলজি, অনকোলজি ও নিউরোলজির মতো জটিল রোগের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।”

তিনি জানান, আধুনিক জরুরি বিভাগ, আইসিইউ (ICU), সিসিইউ (CCU), এইচডিইউ (HDU), উন্নত ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং আধুনিক অপারেশন থিয়েটারের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার সংকট অনেকাংশে দূর হবে।

প্রতিনিধি দলের সফরকালে আরও উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাইদুল ইসলাম এবং সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাক।

সংশ্লিষ্টদের মতে, হাসপাতালটি চালু হলে উত্তরবঙ্গের মানুষকে আর জটিল চিকিৎসার জন্য রাজধানীমুখী হতে হবে না। একই সঙ্গে এটি এ অঞ্চলের স্বাস্থ্যখাতের সামগ্রিক চিত্র বদলে দিয়ে চিকিৎসাসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন