

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নরসিংদী-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। জোটের একক প্রার্থী হিসেবে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারকে মনোনীত করা হলেও মাঠপর্যায়ে জোটভুক্ত নেতা-কর্মীদের একাংশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি নিজেই।
গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে সারোয়ার তুষার অভিযোগ করেন, জোটের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে কিছু নেতা-কর্মী গোপনে ভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এতে জোটের ঐক্য ও নির্বাচনী সাফল্য হুমকির মুখে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’। নরসিংদী-২ আসনে জামায়াতের একজন প্রার্থী থাকলেও বৃহত্তর জোটের স্বার্থে সারোয়ার তুষারকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দেয় দলটি।
এমনকি ব্যালট পেপার থেকে জামায়াতের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ বাদ দেওয়ার দাবিতে নির্বাচন কমিশনে আবেদনও জানানো হয়।
তবে নির্বাচন কমিশন সেই আবেদন গ্রহণ না করায় কারিগরি কারণে ব্যালটে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক থেকেই যাচ্ছে। এই বিষয়টিকেই কেন্দ্র করে জোটের ভেতরে বিভ্রান্তি ও দ্বিমত তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যদিও দলীয়ভাবে সারোয়ার তুষারের পক্ষে কাজ করার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না—এমন অভিযোগ উঠেছে। তুষারের দাবি, এক শ্রেণির নেতা-কর্মী দলীয় নির্দেশ অমান্য করে আড়ালে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষেই প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ফেসবুক পোস্টে সারোয়ার তুষার লেখেন, “মানুষ ভোট দেয় গোপন ব্যালটে, কিন্তু ভোটের প্রচারণা হয় প্রকাশ্যে। কোনো দায়িত্বশীল সংগঠন গোপনে ভোটের প্রচারণা চালাতে পারে না।”
তিনি আরও লেখেন, “মুসলমানের ওয়াদা ইবাদতের অংশ। আমরা যখন রোজা রাখি, মহান আল্লাহকে হাজির-নাজির জেনে রাখি। গোপনে আহারের সুযোগ থাকলেও তা করি না।”
জোটের আদর্শিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “জোট মানে ওয়াদা। জোট মানে সংহতি। জোট মানে আগে যা ছিল দাঁড়িপাল্লা, তা এখন শাপলা কলি। কোনো আদর্শিক সংগঠন ওয়াদার বরখেলাপ করতে পারে না।”
পোস্টের শেষাংশে তিনি ধৈর্যের আহ্বান জানিয়ে লেখেন, “আল্লাহ আমাদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দিন। আমিন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতীক জটিলতা ও মাঠপর্যায়ের দ্বন্দ্ব দ্রুত সমাধান না হলে নরসিংদী-২ আসনে ১১ দলীয় জোট বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। এখন দেখার বিষয়—জোট নেতৃত্ব কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করে নির্বাচনী মাঠে ঐক্য ফিরিয়ে আনতে পারে।
মন্তব্য করুন
