

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি।
এতে উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় দুই ইউনিয়নের ১৬টি সরকারি প্রাথমিক ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয়ভাবে পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৪ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বেড়েছে প্রায় ৮৮ সেন্টিমিটার।
বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি ১২ দশমিক ৮৮ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। অর্থাৎ পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ৯২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় দৌলতপুরের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে অনেক এলাকার যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমিতেও পানি ঢুকে পড়েছে।
সোহেল নামে এক স্থানীয় যুবক বলেন, হঠাৎ করে পানি বাড়তে শুরু করেছে। বাড়ির চারপাশে পানি, চলাচলও কঠিন হয়ে গেছে। পানি আরও বাড়লে পরিবার নিয়ে কোথায় যাব, সেই চিন্তায় আছি।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পানিতে নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রোপা আমন ধান, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
এদিকে বসতবাড়ির কাছাকাছি পানি পৌঁছে যাওয়ায় গবাদিপশুর নিরাপত্তা, গো-খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পানি আরও বাড়লে এসব সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, উজানের ঢলে পদ্মার পানি বাড়ায় ইউনিয়নের প্রায় সব গ্রাম ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন। সাধারণ মানুষ পানিবন্দী হয়ে দুর্ভোগে রয়েছেন।
দৌলতপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মুশতাক আহম্মেদ বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা না দেওয়া হলেও চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১৮টি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে আসতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে এবং পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে বিদ্যালয় ভবনগুলো খোলা থাকবে, যাতে প্রয়োজনে বন্যায় গৃহহীন মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে পারেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কৃষি পরামর্শ দেওয়া হবে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। পানিবন্দী মানুষের সহযোগিতা ও নিরাপত্তার জন্য জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে চিলমারী ইউনিয়নের ২৫০ থেকে ৩০০ অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে সীমিত পরিসরে খাদ্যসামগ্রী ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে।
পদ্মার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় দৌলতপুরের নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



