রবিবার
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলোচিত পীর শামীমের দেহাবশেষ উত্তোলনের ঘটনায় মামলা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত পীর আব্দুর রহমান শামীম ওরফে কালান্দার বাবার দেহাবশেষ উত্তোলনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

রোববার (০৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি এনপিবি নিউজকে নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে শামিমের বড় ভাই ফজলুর রহমান দৌলতপুর থানায় লাশ অবমাননার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হলেও এজাহারে আসামির নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।

এরআগে, শুক্রবার রাতের কোনো একসময় উপজেলার ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকার একটি কবরস্থান থেকে শামীমের দেহাবশেষ তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে তা শামীমের দরবার শরিফ প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) প্রশাসনের পক্ষ থেকে দরবার প্রাঙ্গণের কবরটি উত্তোলন করা হয়। পরে দেহাবশেষ পুনরায় কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

শামীমের পরিবারের দাবি, কবর থেকে দেহাবশেষ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা পরিকল্পিত এবং এর মাধ্যমে মরদেহের অবমাননা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পুলিশ জানিয়েছে,পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেহাবশেষ উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, শামীমের ভাই লাশ অবমাননার অভিযোগে মামলা করেছেন। কারা কবর খুঁড়ে শামীমের দেহাবশেষ তুলে দরবার শরিফে নিয়ে গেছে, তা শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ‘পুরোনো কবর খুঁড়ে দেখা যায়, সেখানে শামিমের দেহাবশেষ নেই। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দরবারে থাকা দেহাবশেষ উদ্ধার করে মূল কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগে পীর আব্দুর রহমান শামীম (৬৫) ওরফে কালান্দার বাবার দরবার শরিফে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসময় তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে বিক্ষুব্ধ জনতা।

পরদিন ১২ এপ্রিল ময়নাতদন্ত শেষে স্থানীয় একটি কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়। পীর শামীম হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও খেলাফত মজলিসের এক নেতাসহ চারজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank