

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিশোরগঞ্জ আগমন উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কের পাশে প্রায় ২০ বছরের পুরোনো ময়লার ভাগাড় থেকে দূর্গন্ধ এড়াতে সৌন্দর্য বাড়াতে বালিচাপা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলা শহরের বিভিন্ন রাস্তাঘাটের আশপাশে জমে থাকা ময়লাও সরানোর উদ্যোগ নিয়েছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।
আগামীকাল রোববার কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে জেলার পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর চেয়ারম্যানবাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্তকরন করবেন এবং পরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সুধীজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করার কথা রয়েছে।
পাকুন্দিয়ার কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী কটিয়াদী উপজেলায় যাবেন। সেখানে কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন। পরে আছমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে আয়োজিত জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদানের জন্য নির্বাচিত ১৪ জন উদ্যোক্তার হাতে স্বর্ণপদক তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।
কটিয়াদীতে কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শনের পর ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের গৃহীত উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন তিনি। পরে বিকেলে জেলা শহরের পুরোনো স্টেডিয়াম মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার খিলপাড়া এলাকায় কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কের পাশে এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রায় ২০ বছর ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়। কিশোরগঞ্জ শহরের বিভিন্ন বাজার ও বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনার পাশাপাশি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বর্জ্য সেখানে ফেলা হয়। পৌরসভাসহ কটিয়াদী, পাকুন্দিয়া ও হোসেনপুর উপজেলার কিছু অংশের ময়লাও এখানে এনে ফেলা হতো। বর্জ্যগুলো উন্মুক্তভাবে থাকায় তীব্র দুর্গন্ধে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও ভৈরবগামী হাজারো যানবাহন ও পথচারী চলাচল করে। বৃষ্টি হলেই ময়লার পচে পানি সড়কে চলে আসায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। তিন থেকে চার বছর আগে এখানে প্রায় ১০ কোটি টাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প তৈরি হলেও লোকবল সংকটের কারনে সেটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। সড়কের পাশ থেকে ময়লার ভাগাড় অপসারণের দাবিতে স্থানীয় লোকজন দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এলাকাবাসী মানববন্ধনসহ নানা প্রতিবাদ কর্মসূচিও করেছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে এক সপ্তাহ ধরে ময়লার কিছু অংশ সরিয়ে বালুচাপা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। একই সড়কের কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায়ও ময়লার স্তূপ ছিল। সেখানেও বালুচাপা দিয়ে ময়লা ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মূলত প্রধানমন্ত্রীর নজর এড়াতে তড়িঘড়ি করে সাময়িকভাবে ময়লা ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী চলে গেলে আগের রূপেই ফিরে আসবে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে খিলপাড়া জেলখানা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশের সেই ময়লার ভাগাড় আগের মতো নেই। ময়লার স্তূপের ওপর থেকে কিছু ময়লা অপসারণ করে বালুচাপা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এতে এলাকাটি পরিচ্ছন্ন দেখাচ্ছে। আগে পথচারীসহ সড়ক ব্যবহারকারীরা দুর্গন্ধে নাক চেপে চলাচল করলেও এখন স্বাচ্ছন্দ্যেই চলাচল করতে পারছেন।


