

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মাদক নির্মূলে কোনো ধরনের আপস নয়, বরং মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত গডফাদার থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন খুলনা রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেছেন, শুধু মাদক বহনকারী বা খুচরা কারবারিদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না, এই ব্যবসার মূল হোতাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রয়োজনে তাদের সম্পদ ও আয়ের উৎস অনুসন্ধান করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রভাবশালী মহল মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকেও আইনের মুখোমুখি হতে হবে।"
তিনি বলেন, মাদক নির্মূল শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একার দায়িত্ব নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলেই মাদকের ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
ডিআইজি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যারা আড়ালে থেকে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে, তাদের শনাক্ত করাই এখন পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। তিনি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, মাদক সিন্ডিকেটের মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে তাদের সম্পদের হিসাব, ব্যাংক লেনদেন ও আয়ের উৎস তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা উদ্বেগজনক উল্লেখ করে ডিআইজি বলেন, খুলনা বিভাগের প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারকে কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, "কিশোর গ্যাং সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।"
অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে বিশেষ প্রযুক্তিনির্ভর টিম গঠনের ঘোষণা দিয়ে ডিআইজি বলেন, এই টিম সার্বক্ষণিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পর্যবেক্ষণ করবে। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে যারা অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে, তাদের শনাক্ত করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চুরি, ডাকাতি ও নারী নির্যাতনের মতো অপরাধের বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ছোট কিংবা বড়, যেকোনো চুরির ঘটনাকেই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় থাকতে হবে।
নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে ডিআইজি বলেন, ভুক্তভোগীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, ধর্ষণের মতো গুরুতর ঘটনায় অভিযুক্তদের দুই দিনের মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশনা রয়েছে। সঠিক তদন্ত শেষে প্রকৃত চার্জশিট আদালতে দাখিল করতে হবে। তদন্তে অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতবিনিময় সভায় ডিআইজি বলেন, ফ্যাসিবাদী অপশক্তি যেন কোনোভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে সর্বদা সজাগ রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে
এর আগে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পৌঁছালে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে তিনি কার্যালয় প্রাঙ্গণে একটি জলপাই গাছের চারা রোপণ করেন।
তিনি জানান, সরকারের ঘোষিত '৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ' কর্মসূচির অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছরে যশোর জেলা পুলিশ ৩ হাজার বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। জেলার বিভিন্ন থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, পুলিশ লাইনস ও অন্যান্য পুলিশ স্থাপনায় এসব গাছ রোপণ করা হবে।
ডিআইজি বলেন, "পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। সরকারি এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে পুলিশও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।"
মতবিনিময় সভায় যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজিবুল ইসলাম, মিরাজুল ইসলাম, সাখাওয়াত হোসেন, আহসান হাবিবসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যশোর জেলার সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি ও প্রেসক্লাব যশোরের সাবেক সভাপতি একরাম উদ্দৌলা, প্রেসক্লাব যশোরের সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমান, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান, সাবেক সভাপতি নুর ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ, সাংবাদিক সাকিরুল কবির রিটন, তারিক হাসান বিপুল, কাজী আশরাফুল আজাদ, দেওয়ান মোর্শেদ আলম, আব্দুল কাদের, মীর মঈন হোসেন মুসা, ইন্দ্রজিৎ রায়সহ জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা।