

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


একটি বেসরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এপেক্স ফার্মার এক নারী মেডিকেল প্রমোশন অফিসার (এমপিও) তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রিজিওনাল ম্যানেজার সেলিম রেজার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার, বেআইনি চাকরিচ্যুতি, বেতন বঞ্চনা ও মানসিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। প্রতিকার চেয়ে তিনি স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা রাইটস যশোর-এ লিখিত আবেদন করেছেন।
অভিযোগকারী জানান, চলতি বছরের ৯ এপ্রিল তিনি এপেক্স ফার্মায় মেডিকেল প্রমোশন অফিসার হিসেবে যোগ দেন। নিয়োগপত্র অনুযায়ী তার মাসিক বেতন ছিল ২০ হাজার টাকা এবং টিএ-ডিএ ৭ হাজার টাকা। চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই রিজিওনাল ম্যানেজার সেলিম রেজা ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে তাকে অশালীন ও অনৈতিক প্রস্তাব দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব বার্তার স্ক্রিনশটও তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওই প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তার বেতনের একটি অংশ আটকে রাখা হয় এবং পরে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। একপর্যায়ে তাকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিনিময়ে বকেয়া টাকা ফেরত, চাকরি বহাল রাখা এবং বেতন বৃদ্ধির প্রলোভন দেখানো হয়। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলে তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীনভাবে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে সতর্কীকরণ (ওয়ার্নিং) চিঠি দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সতর্কীকরণ চিঠির জবাবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে প্রমাণ উপস্থাপনের কথা জানালেও পরে তার প্রাপ্য বেতন পরিশোধ না করেই চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এতে তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন।
তবে এপেক্স ফার্মার রিজিওনাল ম্যানেজার সেলিম রেজা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। হোয়াটসঅ্যাপের কথোপকথনের স্ক্রিনশট প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, সেগুলো কম্পিউটারে সম্পাদনা করে তৈরি করা হয়েছে। তার ভাষ্য, চুক্তিপত্র অনুযায়ী কর্মদক্ষতা প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় অভিযোগকারীকে নিয়ম মেনেই চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এদিকে অভিযোগকারীর নিয়োগপত্রে ছয় মাসের শিক্ষানবিশকাল উল্লেখ রয়েছে। নিয়োগপত্রে এপেক্স ফার্মার সহকারী ম্যানেজার (এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিন) এ এফ এম মনিরুজ্জামানের স্বাক্ষর রয়েছে।
রাইটস যশোরের ডেপুটি ম্যানেজার এস এম আজহারুল ইসলাম বলেন, "চাকরিক্ষেত্রে নারীরা এখনো যে নিরাপদ নন, এই অভিযোগ তারই একটি উদ্বেগজনক উদাহরণ। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
উল্লেখ্য, অভিযোগগুলো অভিযোগকারীর লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন।