

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গাইবান্ধার ফুলছড়িতে একটি কেন্দ্রে ২০২৫ সালের প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন ২০ পরীক্ষার্থী। তারা ২০ জনই ২০২৬ সালের পরীক্ষার নিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিলেন। এতে ফলাফল নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ওই শিক্ষার্থীসহ তাদের অভিভাবকরা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উপজেলার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি বুঝতে পেরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
গত বছরের প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি মুঠোফোনে নিশ্চিত করেছেন ফুলছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ মনিরুল হাসান।
তিনি বলেন, ঘটনাটি সঠিক। ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের একটি কক্ষের ২০ জন পরীক্ষার্থী ২০২৫ সালের প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছেন। তারা সবাই একটি কক্ষে পরীক্ষা দিয়েছেন এবং সবাই ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিলেন।
পরীক্ষা শেষে লিখিত প্রশ্নপত্র মিলিয়ে দেখার পর বিষয়টি নিশ্চিত হন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এ বিষয়ে পরীক্ষার্থীরা বলেন, আমাদেরকে ভুল প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আমাদের ফলাফল এখন ঝুঁকিতে।
অভিভাবকরা বলেন, এমন ভুলে আমাদের সন্তানদের একটি বছর হারিয়ে যেতে পারে। আমরা এ ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে বিচার চাই।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে সাঘাটা উপজেলার উদয়ন মহিলা ডিগ্রি কলেজ এবং ফুলছড়ি উপজেলার বুড়াইল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রায় ২৫ জন পরীক্ষার্থী রয়েছেন।
ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি জানার পর পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা কেন্দ্র সচিব ও কলেজের অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ জানান।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে কলেজ প্রাঙ্গণে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় জমে যায়। তারা এ ধরনের অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ এস. এম. আসাদুল ইসলামের বলেন, যে প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা নেওয়া হোক, সেই প্রশ্নপত্রের ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হবে। আমি এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি।
ফুলছড়ি ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ মশিউর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ কাজ করছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গাইবান্ধা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের দায় সম্পূর্ণ কেন্দ্র সচিবের। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের আলাদা কক্ষে বসানোর কথা। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র বিতরণের আগে তা যথাযথভাবে যাচাই—বাছাই নিশ্চিত করারও নির্দেশনা রয়েছে।

