

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর রাত। কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের সদর দক্ষিণ উপজেলার হরিশ্চর সড়ক।
রাত নয়টা ১৫ মিনিট থেকে রাত ১১টার মধ্যে লাকসাম ফেয়ার হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্স আটক করে র্যাবের একটি দল। অ্যাম্বুলেন্সটি ছিল ঢাকা মেট্রো-ছ-৭১-১২৬৫ নম্বরের।
অভিযোগ রয়েছে, ওই অ্যাম্বুলেন্স থেকে লাকসাম উপজেলা বিএনপির তৎকালীন সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম হীরু এবং লাকসাম পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজকে তুলে নিয়ে যায় র্যাব। এরপর কেটে গেছে ১৩ বছর। তাঁদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
স্বজনদের অপেক্ষারও শেষ হয়নি। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর তাঁরা ফিরে আসার আশায় পথ চেয়ে আছেন। তাঁদের সন্ধান চেয়ে কুমিল্লার আদালতে মামলা হলেও এত বছরেও ঘটনার কোনো কিনারা করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা।
এর মধ্যেই আজ ৩০ আগস্ট পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। দিবসটিকে ঘিরে নিখোঁজ দুই বিএনপি নেতার পরিবারে পুরোনো সেই অপেক্ষা ও ক্ষত আবারও সামনে এসেছে।
সকালে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে দেখা করেন নিখোঁজ হুমায়ুন কবির পারভেজের ছেলে মো. শাহরিয়ার কবির রাতুল। তিনি লাকসাম পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক।
নিখোঁজ সাইফুল ইসলাম হীরুর ছেলে রাফসানুল ইসলাম বলেন, তাঁর বাবা রাজনৈতিকভাবে দক্ষ ও ক্যারিশম্যাটিক নেতা ছিলেন। তাঁকে গুম করে ফ্যাসিস্ট সরকার লাকসামে রাজত্ব কায়েম করেছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাফসানুল ইসলাম বলেন, বাবা লাকসামকে প্রচণ্ড ভালোবাসতেন। লাকসামেই থাকতেন, সময় কাটাতেন। তাঁর সঙ্গে আমাদের যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।
অন্যদিকে হুমায়ুন কবির পারভেজের ছেলে শাহরিয়ার কবির রাতুল বলেন, বাবার ধ্যানজ্ঞানই ছিল বিএনপি। দল করার কারণেই তাঁকে তুলে নেওয়া হয়। র্যাব তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। আমরা র্যাবের তারেক সাঈদসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিচার চাই।
পারভেজের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার রানু এখনো স্বামীর ফিরে আসার অপেক্ষায় আছেন। ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁর মনে হয়, এই বুঝি পারভেজ ফিরে আসবেন। শাহনাজ আক্তার রানু বলেন, এই বুঝি পারভেজ চলে আসবে। একদল নেতাকর্মী নিয়ে এসে বলবে, সবাইকে ভাত দাও। এখনও আমরা তাঁকে খুঁজি। আমরা এই গুমের বিচার চাই।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ১৩ বছর ধরে তাঁরা শুধু প্রিয়জনের সন্ধানই চান। তাঁদের প্রশ্ন, সেদিন রাতে হীরু ও পারভেজকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তাঁদের কী হয়েছে-এসব প্রশ্নের উত্তর আজও মেলেনি।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে তাই তাঁদের একটাই দাবি- নিখোঁজ দুই নেতার সন্ধান ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা।


