

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের দাবি করে একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে জেলা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চিঠিটিকে ভুয়া বলে দাবি করেছেন।
রোববার দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ওই চিঠিতে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) স্বাক্ষরিত বলে উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে অনুষ্ঠিত একটি মিছিল এবং প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
চিঠিটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। পরে দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জানান, এটি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জারি করা কোনো আদেশ নয়।
তাঁদের ভাষ্য, পুলিশ সদর দপ্তরের প্রশাসনিক আদেশে নির্দিষ্ট ফরম্যাট অনুসরণ করা হয়। সেখানে আদেশ প্রদানকারী কর্মকর্তার পূর্ণ পরিচয়, প্রয়োজনীয় অনুলিপি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নাম উল্লেখ থাকে। ভাইরাল হওয়া চিঠিতে এসব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান অনুপস্থিত থাকায় প্রাথমিকভাবে এটি ভুয়া বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার অভিযান, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম এবং পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগের কারণে কোনো অসন্তুষ্ট মহল এ ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত চিঠিটি সম্পর্কে অনেকেই আমাকে জানিয়েছেন। যাচাই করে দেখেছি, এটি পুলিশ সদর দপ্তরের কোনো অফিসিয়াল চিঠি নয়। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর জন্য একটি মহল এ ধরনের ভুয়া নথি ছড়িয়েছে বলে ধারণা করছি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুয়া চিঠিটি কারা তৈরি ও প্রচার করেছে, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর কুমিল্লার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।