

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারে যানজট যেন এখন নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। হকারদের দখল, যত্রতত্র দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজি ও অটোরিকশা, মাঝপথে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা এবং অপরিকল্পিত যানবাহন চলাচলের কারণে প্রতিদিনই ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই সমস্যার কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাজীগঞ্জবাসীকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারের প্রধান সড়কগুলো বিভিন্নভাবে দখল হয়ে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সামান্য দূরত্ব অতিক্রম করতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগে যায়। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ পথচারীদের প্রতিদিনই এই দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই যানজট থেকে রেহাই পাচ্ছে না জরুরি সেবার যানবাহনও।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অসুস্থ রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন বেজেও অনেক সময় যানজটের কারণে এগোতে পারে না। একইভাবে অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে ছুটে আসা ফায়ার সার্ভিসের গাড়িকেও দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে দেখা যায়। এতে জরুরি সেবা পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী ও সচেতন নাগরিকদের মতে, বাজার এলাকায় অবৈধ পার্কিং, ফুটপাত ও সড়ক দখল, হকারদের অনিয়ন্ত্রিত অবস্থান এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কারণে দিন দিন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। তারা মনে করেন, নিয়মিত মনিটরিং ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে এই সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে।
হাজীগঞ্জবাসীর দাবি, বাজার এলাকার সড়কগুলো দখলমুক্ত করা, অবৈধ পার্কিং বন্ধ, হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ এবং কঠোর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হলে যানজট অনেকাংশে কমে আসবে। জনস্বার্থে প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যানজট নিরসনে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং সড়ক দখলমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে কার্যকর সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতাও প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যে শহরে সাইরেন বাজিয়েও অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পথ পায় না, সেই শহরের নাগরিকদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত? এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুরো হাজীগঞ্জবাসী।