সোমবার
১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইলিশের বাড়িতেও বৈশাখের আগুন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে ‘ইলিশের বাড়ি’ খ্যাত ভোলায় ইলিশের দামে আগুন লেগেছে। বর্তমানে বাজারে এক কেজি ওজনের একটি ইলিশের দাম ঠেকেছে সাড়ে তিন হাজার টাকায়, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভোলার শহরের কিচেন মার্কেটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশ কিনতে বাজারে ভিড় করছেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।

উৎসবের অজুহাতে রাতারাতি দর বাড়িয়ে সাধারণ ক্রেতাদের পকেট কাটছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। আর অতিরিক্ত দামের কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা সাধ থাকলেও সাধ্যের অভাবে ইলিশ না কিনেই বাড়ি ফিরছেন।

শহরের মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভোলার বাজারে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৩ হাজার টাকা, ৭০০-৯৫০ গ্রামের ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৫শ থেকে ৩ হাজার, ৫০০-৬০০ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার, ৩০০-৪০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ৪শ টাকা এবং জাটকার কেজিও ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া প্রতি মণ ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা, ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা এবং ছোট জাটকা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৮ হাজার থেকে ৩২ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

ইলিশ কিনতে আসা ক্রেতারা বলেন, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বাজারে ইলিশ কিনতে আসছিলাম। কিন্তু সর্বনিম্ন জাটকার দামও ১ হাজার টাকা কেজি। আর ৫০০-৬০০ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার টাকা দেখে অবাক হয়েছি। আমার তো এমন আয় নেই। তাই ইলিশ না কিনে রুই মাছ কিনে বাড়ি চলে যাচ্ছি।

বাজারের ইলিশ বিক্রেতা মো. নিরব, বিল্লাল ও মহিউদ্দিন জানান, নদীতে ইলিশ ধরায় ২ মাসের নিষেধাজ্ঞা। সব জেলেরা নদীতে যায় না। আবার পহেলা বৈশাখের কারণে ঢাকায় ইলিশের চাহিদা বেশি। এজন্য ভোলার মাছঘাটগুলোতে ইলিশের দাম চড়া। আমরাও দাম বেশি দিয়ে কিনে বাজারের ১০০-২০০ টাকার বেশি লাভ করতে পারি না। তবে পহেলা বৈশাখ ও ইলিশের নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে আবারও ইলিশের দাম অর্ধেক কমে যাবে।

ভোলার তুলাতুলি মৎস্য ঘাটের আড়তদার মো. কামাল ব্যাপারী জানান, ইলিশের নিষেধাজ্ঞার কারণে বেশি ভাগ জেলেই নদীতে যায় না। পহেলা বৈশাখের কারণে ঢাকার পাইকারি আড়তে ইলিশের পাঠানোর চাপ রয়েছে। এ কারণে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইলিশ বেচা-বিক্রি হচ্ছে। ঘাটে পাইকারি, ব্যাপারী ও ক্রেতা বেশি হওয়ায় নিলামে ইলিশের দাম বেশি উঠে যায়। এ কারণে ইলিশের দাম বেশি।

এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কেউ যদি ইলিশ মাছ ধরে বা ঘাট-বাজারের বেচা-বিক্রি করে, তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন