

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় সুপেয় পানির জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। উপজেলার পৌর শহরসহ ২১টি ইউনিয়নে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় অর্ধলক্ষ গভীর নলকূপে এখন আর পানি উঠছে না। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে।
পানির অভাবে উপজেলাজুড়ে এক অভূতপূর্ব সংকট তৈরি হয়েছে। রান্নাবান্না ও পানযোগ্য পানির জন্য মানুষকে দূর-দূরান্তের সচল নলকূপগুলোতে ভিড় করতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় কোনো বিকল্প না থাকায় বাসিন্দারা পুকুর, খাল ও ডোবার দূষিত পানি সংগ্রহ করছেন। এতে এলাকায় পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে, বিশেষ করে শিশু ও কিশোররা ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। এমনকি পানির অভাবে অনেক মসজিদে মুসল্লিদের অজু করতেও বেগ পেতে হচ্ছে।
জাহানপুরের জয়নব বিবি বলেন, নলকূপে পানি উঠছে না। তারা পানির সংকটে আছেন। রমজানে যখন পানির প্রয়োজন বেশি, তখনই সমস্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ফলে তারা আশপাশের পুকুরের পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছেন। এতে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বৃদ্ধসহ শিশু-কিশোর।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চরফ্যাশনে সরকারি উদ্যোগে প্রায় ১২ হাজার গভীর নলকূপ রয়েছে, যার মধ্যে ২ হাজার ৫০০টি বর্তমানে অকেজো। এ ছাড়া ব্যক্তি মালিকানাধীন লক্ষাধিক নলকূপের মধ্যে প্রায় ৪০ হাজারের বেশি নলকূপে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার নলকূপ দিয়ে পানি উত্তোলন সম্ভব হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্টদের মতে, গত কয়েক বছর ধরে শুষ্ক মৌসুমে এই অঞ্চলে পানির স্তর ধারাবাহিকভাবে নিচে নামছে। প্রতি বছর গড়ে প্রায় দুই ফুট করে পানির স্তর নিচে চলে যাচ্ছে। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন এবং কৃষি কাজে, বিশেষ করে ইরি-বোরো চাষে ভূগর্ভস্থ পানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার। সেচ কাজের জন্য বসানো শক্তিশালী পাম্পগুলোর কারণে সাধারণ গভীর নলকূপগুলোতে পানির টান পড়ছে।
উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সাথে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছে। তবে এখনো কার্যকর কোনো সমাধান না আসায় সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এই সংকট নিরসনে এবং সুপেয় পানির বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
মন্তব্য করুন
