

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ভুয়া দলিল তৈরি করে ২৭ শতাংশ জমি নামজারি ও রেকর্ড করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে লিয়াকত আলী হাওলাদারের বিরুদ্ধে। পরে ওই জমি অন্যের কাছে বিক্রি করে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় আজগোর আলী মৃধা বাদী হয়ে বরিশাল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দিয়েছেন।
স্থানীয় ও ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের উত্তর ভাল্লুকসী মৌজার এসএ ৫৬ নম্বর খতিয়ানের ৩৭৪ নম্বর দাগ এবং বিএস ২৪৮ নম্বর খতিয়ানের ৫৪৯ নম্বর দাগের ২৭ শতাংশ জমির রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন বিনোদ বিহারীর স্ত্রী উপসনা। অভিযোগ রয়েছে, ওই জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে লিয়াকত আলী হাওলাদার গ্রহীতা হয়ে উপসনাকে দাতা দেখিয়ে একটি দলিল তৈরি করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, দলিলটি আগৈলঝাড়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১৭১৯ নম্বর দলিল হিসেবে ২০১০ সালের ১০ আগস্টের তারিখে দেখানো হয়। তবে ওই নামে কোনো দাতার দলিল পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। বরিশাল নকলখানা থেকে একই নম্বরের দলিল পাওয়া গেলেও সেখানে দাতা ও গ্রহীতার নামের কোনো মিল নেই।
নকলখানা থেকে পাওয়া ১৭১৯ নম্বর দলিলটিতে দাতা হিসেবে ভাল্লুকসী গ্রামের মৃত কার্তিক চন্দ্র তপাদারের ছেলে তপন তপাদারের নাম রয়েছে। সেখানে উত্তর ভাল্লুকসী মৌজার বিভিন্ন দাগের মোট ৩০ শতাংশ জমির বিবরণ রয়েছে, যা লিয়াকত আলী হাওলাদারের নামজারির জন্য ব্যবহৃত দলিলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর লিয়াকত আলী হাওলাদার দ্রুত উপসনার নামে রেকর্ড হওয়া জমি অন্যত্র বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলার বাদী আজগোর আলী মৃধা বলেন, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন। এখন লিয়াকত আলী হাওলাদার জোরপূর্বক জমিটি দখলের চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় ফয়জর আলী মৃধা, লুতফর রহমান ও মজিবর হাওলাদারসহ কয়েকজন বলেন, তাদের জানামতে প্রায় ৪০ বছর ধরে ফরমান আলী মৃধার ছেলে আজগোর আলী মৃধা ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন।
অভিযোগের বিষয়ে লিয়াকত আলী হাওলাদার বলেন, আগৈলঝাড়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২০১০ সালের ১০ আগস্টের ১৭১৯ নম্বর দলিলের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি নামজারির জন্য আবেদন করেন। মিউটেশন মামলা নম্বর ১২০৩। তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বায়েজীদ সরদার ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর তার নামে ২৭ শতাংশ জমি নামজারি ও রেকর্ড করার আদেশ দেন। ওই আদেশের ভিত্তিতে খতিয়ান নম্বর ২৫-৮১২-তে তিনি মালিক হন এবং পরে একই এলাকার মতলেফ মৃধার ছেলে জুলহাশ মৃধা ও রমজান মৃধার কাছে জমিটি বিক্রি করে দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
বর্তমান আগৈলঝাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ আহমেদ বলেন, লিয়াকত আলী হাওলাদার অনলাইনে মিউটেশন রেকর্ডের জন্য আবেদন করেছিলেন। তার আবেদনের কাগজপত্র অনলাইনে রয়েছে। তৎকালীন কর্মকর্তা কাগজপত্র যাচাই করে রেকর্ড দিয়েছিলেন। কোনো আবেদনকারী জালিয়াতির মাধ্যমে আদালত বা ভূমি অফিসকে ভুল বুঝিয়ে থাকলে এর দায়ভার আবেদনকারীকে নিতে হবে।


