

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্ক জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। মাঠে জায়গার অভাব দেখা দেওয়ায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী পার্কসংলগ্ন রাস্তায় অবস্থান নেন।
অনেকে তারেক রহমানকে এক নজর দেখতে ও বক্তব্য শুনতে গাছের ডালেও উঠে বসেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রচারণায় অংশ নিতে দুই দশক পর বরিশালে পৌঁছান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এ সফরকে ঘিরে পুরো নগরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে তিনি হেলিকপ্টারযোগে বরিশাল স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে অবতরণ করেন। ২০০৬ সালের পর এটিই তার প্রথম বরিশাল সফর। ফলে নেতাকর্মীদের মাঝে ছিল বাড়তি উদ্দীপনা ও প্রত্যাশার ছাপ।
অবতরণের পর বরিশাল বিভাগ ও জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা তাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি সড়কপথে সমাবেশস্থলে পৌঁছে হাত নেড়ে লাখো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অভিবাদন গ্রহণ করেন।
তার আগমন উপলক্ষে সকাল থেকেই বেলস পার্ক ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকেও বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সমাবেশে যোগ দেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, তারেক রহমানকে সরাসরি দেখতে কয়েক লাখ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল এ সমাবেশে। তাদের মতে, দক্ষিণাঞ্চলে এটিই হতে পারে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জনসমাগমের একটি।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, প্রায় ২০ বছর পর দলীয় চেয়ারম্যানকে দেখতে পেয়ে তারা আবেগাপ্লুত। তাদের ভাষায়- এটি শুধু একটি জনসভা নয়, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর দক্ষিণাঞ্চলের বিএনপি নেতাকর্মীদের মনোবল ও রাজনৈতিক উদ্দীপনার প্রতীক।
২০০৬ সালে বরিশাল সফরের সময় তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব ছিলেন। এবার চেয়ারম্যান হিসেবে তার আগমনকে তারা দল পুনর্গঠনের একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ হিসেবে দেখছেন।
তার সফরকে কেন্দ্র করে স্টেডিয়াম ও সমাবেশস্থলের চারপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। প্রশাসন জানায়, সম্ভাব্য বৃহৎ জনসমাগম বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপক সংখ্যক নেতাকর্মীকে সমাবেশে আনার জন্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃত্ব একযোগে প্রস্তুতি নিয়েছিল। সমাবেশটিকে দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী শক্তি-প্রদর্শনে রূপ দিতে বিভিন্ন পরিকল্পনাও নেয়া হয়।
নেতারা আশা করছেন, তারেক রহমানের এ সফর দক্ষিণাঞ্চলে বিএনপির তৃণমূল সংগঠনকে নতুন গতিতে সক্রিয় করবে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন উদ্দীপনা যোগ করবে।
মন্তব্য করুন