শুক্রবার
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এনপিবিতে সংবাদ প্রকাশের পর ৯৫ পরিবার পেল ত্রাণসামগ্রী

রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪১ পিএম আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
ছবি: এনপিবি নিউজ
expand

বাগেরহাটের রামপালে গত ৩০ আগস্ট ‘ভাঙল রামপালের বেড়িবাঁধ, পানি বন্দি ১০০ পরিবার’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার দুইদিন পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশেষে ত্রাণসামগ্রী পেলো অসহায় ৯৫ পরিবার। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধটি দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী বুধবার থেকে বাঁধ সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টায় ভাঙন কবলিত এলাকায় উপস্থিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে এই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সাইফুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন - গৌরম্ভা ইউনিয়নের প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. পলাশ আহম্মেদ, গৌরম্ভা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাস্টার মুজিবর রহমান জোয়ার্দারসহ বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

সরবরাহ ত্রাণ সামগ্রীতে রয়েছে - চাল ১০ কেজি, দেশি মশুর ডাল ১ কেজি, লবণ ১ কেজি, চিনি ১ কেজি, সয়াবিন তেল ১ লিটার, মরিচের গুঁড়া ১০০ গ্রাম, হলুদের গুঁড়া ২০০ গ্রাম এবং ধনিয়া গুঁড়া ১০০ গ্রাম।

এনপিবি নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি ত্রাণসামগ্রী পেয়ে উপকারভোগী আব্দুল সালাম মোল্লা, মাসুম মোল্লা, এহিয়া শেখ, আজিত শেখ, মোরাদ ফরাজি, আজমিরা খাতুন ও নারগিস আক্তার জানান, শুনেছি পত্রিকায় নিউজ হলে অসহায় মানুষের উপকার ও সহায়তা মেলে। আপনাদের পত্রিকায় আমাদের নিয়ে নিউজ করায় আমরা চাল, ডাল, তেলসহ অনেক কিছু পেয়েছি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে আমাদের ঘরবাড়ি সব তলিয়ে যায়। খাওয়া দাওয়া একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। কাজকর্ম না থাকায় আমরা খুবই কষ্টের মধ্যে ছিলাম। এখন এই ত্রাণ পেয়ে আমরা খুবই উপকৃত হলাম। এজন্য আপনাদের ধন্যবাদ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীজ তামান্না ফেরদৌসী এনপিবিকে বলেন, দেশ ও মানুষের কল্যাণে গণমাধ্যম একটি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে থাকে। অজানা তথ্য বা সত্যর পথকে সুগম করে তাদের কলমের মাধ্যমে। তারই ধারাবাহিকতায় উপজেলার টিটুর চরে আকষ্মিক জোয়ারের পানির চাপে বাঁধ ভেঙে একটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে শত শত ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়। উপজেলা থেকে টিটুর চর অনেক দূরবর্তী হওয়ায় বিষয়টি আমাদের নজরে আসেনি। পরবর্তীতে এনপিবি অনলাইন পত্রিকায় নিউজের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি। পরবর্তীতে আমরা দ্রুত সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিই। আপনাদের মাধ্যমে অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে পেরে নিজেও অনেক খুশি। এজন্য আপনাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন পূর্বে মরা পশুর নদী সংলগ্ন বেড়িবাঁধ ভেঙে উপজেলার গৌরম্ভা ইউনিয়নের লিটুর চরসহ আশপাশের এলাকার শত শত মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। অনেক বসতঘর ও ঘরের আঙ্গিনা পানিতে তলিয়ে যায়। পানিবন্দি পরিবারের রান্নাবান্নাসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হয়। জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় জোয়ারের পানিতে তা ভেঙে মাছের ঘের ও আমনের বীজতলা তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতির কথা জানান স্থানীয়রা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank