

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও জেলা তাঁতী লীগের সাবেক আহ্বায়ক, রায়পুরার অলিপুরা ইউনিয়ন পরিষদের একাধিকবারের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহম্মেদ দুলু প্রকাশ্যে আজীবন বিএনপির রাজনীতি করার ঘোষণা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে রায়পুরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় লিখিত ও মৌখিক বক্তব্যে তিনি বলেন, তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর দ্বারা রাজনৈতিকভাবে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
আলী আহম্মেদ দুলুর দাবি, “আমাকে জোর করে দুইবার নির্বাচনে হারানো হয়েছে। নির্বাচন অফিসে আটকে রেখে নানা ধরনের হয়রানি করা হয়েছে। আমি কোনো নির্দিষ্ট দলের রাজনীতি করিনি, তবে আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলাম।”
তিনি আরও বলেন, “আমি একসময় ছাত্রদল করতাম। ১৯৮১ সালে ছাত্রদল দিয়ে রাজনীতি শুরু করি। পরে চেয়ারম্যান হওয়ার পর যে দল ক্ষমতায় এসেছে, তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে চলেছি। কিন্তু মনে-প্রাণে আমি ছোটবেলা থেকেই বিএনপির আদর্শের মানুষ। আমার আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের অধিকাংশ সদস্যই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তবে বিষয়টি এতদিন প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, “আজ সাংবাদিকদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাচ্ছি যে, আমি পূর্ণাঙ্গভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছি।”
নিজেকে “আদি বিএনপি” দাবি করে আলী আহম্মেদ দুলু বলেন, “আমি নিজের ঘরে ফিরে এসেছি। অতীতেও বিএনপি করেছি, বর্তমানে বিএনপিতে আছি এবং জীবনের বাকি সময় বিএনপি করেই পার করতে চাই। আজ থেকে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাবেক এমপি-মন্ত্রীদের সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করব।”
এদিকে স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, আলী আহম্মেদ দুলুর রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার দল পরিবর্তনের ইতিহাস রয়েছে। তিনি একসময় জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের পরিচয়ে একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। একই সঙ্গে তিনি জেলা তাঁতী লীগের সাবেক আহ্বায়ক এবং নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পদেও দায়িত্ব পালন করেন।
তবে দল পরিবর্তনের বিষয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
