

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা মধ্যপাড়া গ্রামে গরু চরানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত সাত ব্যক্তি আহত হয়েছেন। ঘটনার জেরে পাল্টাপাল্টি হামলা, ভাঙচুর ও অর্থ লুটের অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৪ জুন) দুপুর ১টার দিকে একই গ্রামের মৃত কাইয়ুমের ছেলে পান্নু (৩৫) শাহিন আলমের বাড়ির পাশের জমিতে গরু চরাতে যান। এ সময় শাহিন আলম বাড়ির পার্শ্ববর্তী গাছপালা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কার কথা বলে গরু অন্যত্র নিয়ে যেতে বলেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে।
পান্নুর পরিবারের অভিযোগ, সংঘর্ষ চলাকালে পান্নুর পায়ের উরুতে বটি দিয়ে আঘাত করা হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার ভাই খোরশেদ (৪৫) মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে আহত দুইজনকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে শাহিন আলম দাবি করেন, ঘটনার জেরে একই দিন বিকেল ৪টার দিকে খোরশেদ তার লোকজন নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় বাড়ির দুটি কাঁচের জানালা ও বৈদ্যুতিক মিটার ভাঙচুর করা হয়। হামলাকারীরা তাকে মারধর করার পাশাপাশি তার স্ত্রী মোছা. আরজিনা বেগম, পুত্রবধূ এবং ছেলে শাকিল , মনির ও আরিফকে বেদম মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শাহিন আলম আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা ঘরের খাটের নিচে রাখা ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। আহতদের শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সকাল ৯টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, শাহিনের ছেলে শাকিল ফুলতলা সড়কে উঠলে খোরশেদসহ ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি তাকে ধাওয়া করেন। তবে শাকিল দৌড়ে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
ঘটনার বিষয়ে শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিকাশ বলেন, “আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।