

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নেত্রকোনা শহরের একটি বহুতল ভবনের দ্বিতীয় তলায় ঢুকে এক গৃহবধূকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্ত। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর স্বামী ও ছেলে। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত এক যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।
সোমবার রাত নয়টার দিকে পৌর শহরের উত্তর কাটলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মনোয়ারা বেগম (৫০) ওই এলাকার বাসিন্দা ও ঠিকাদার মো. আবু চানের স্ত্রী। আটক আবদুর রশিদ (৩২) একই এলাকার এরশাদ মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় ইজিবাইকচালক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আবদুর রশিদ প্রায়ই মনোয়ারা বেগমের কাছ থেকে টাকা ধার নিতেন। সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে তিনি মনোয়ারার বাসায় গিয়ে পাঁচ হাজার টাকা ধার চান। সে সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা বাইরে ছিলেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে আবদুর রশিদ ঘরে থাকা একটি বঁটি দিয়ে মনোয়ারার গলায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে কিছুক্ষণ পর মনোয়ারার ছোট ছেলে আবির হাসান (২৫) বাসায় ফিরে ঘটনাটি দেখে ফেলেন। তখন অভিযুক্ত তার ওপরও হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করেন। ছেলেকে উদ্ধার করতে এগিয়ে গেলে আবু চানকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আবদুর রশিদকে আটক করেন এবং পুলিশে খবর দেন। পরে আহত বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে নেত্রকোণা জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত আবির হাসানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে অভিযুক্ত ব্যক্তি নেশাগ্রস্ত ছিলেন। নেশার অর্থের জন্য তিনি মনোয়ারা বেগমের কাছে পাঁচ হাজার টাকা ধার চেয়েছিলেন। টাকা না পেয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।