

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে বাস চলাচলের পারমিট ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে সুরমা ও আল-আরাফাহ এক্সপ্রেস পরিবহনের শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টা-পাল্টি বাস বন্ধের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অচলাবস্থায় প্রায় তিন ঘণ্টা মহাসড়ক বন্ধ থাকায় কয়েক হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
জানা যায় , হাজীগঞ্জ-কচুয়া-গৌরীপুর সড়কে চলাচলকারী আল-আরাফাহ এক্সপ্রেস বাসের রুট পারমিট না থাকায় সার্জেন্ট বাসগুলো চলাচল বন্ধ করে দেন। এর জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে আল-আরাফাহ এক্সপ্রেসের শ্রমিকরা হাজীগঞ্জ বাস কাউন্টারে সুরমা পরিবহনের প্রায় ৫০টিরও বেশি বাস আটকে রাখেন।
মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের জগতপুর এলাকায় সুরমা বাস শ্রমিকরা আল-আরাফাহ এক্সপ্রেসের চলাচল বাধাগ্রস্ত করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিক্রিয়ায় আল-আরাফাহ বাসের শ্রমিকরা কালিয়াপাড়া এলাকায় অবস্থান নিয়ে মহাসড়কের অন্যান্য সকল পরিবহনের বাস চলাচলও বন্ধ করে দেয়। এতে মুহূর্তের মধ্যেই সড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় সাধারণ যাত্রীরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। অনেককে কয়েক গুণ বেশি ভাড়ায় বিকল্প যানবাহনে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। কচুয়া সুরমা কাউন্টারে অপেক্ষারত এক যাত্রী বলেন, কোনো ঘোষণা ছাড়াই বাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ৪০০-৬০০ টাকা ভাড়া দিয়ে ভেঙে ভেঙে ঢাকা যেতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের এই কষ্ট দেখার কি কেউ নেই?
মহাসড়কে আটকে পড়া অন্য যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "পারমিট নিয়ে সমস্যা থাকলে তা অফিসিয়ালভাবে সমাধান হবে, কিন্তু সড়ক বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা কেন?"
সুরমা বাসের শ্রমিক ও চালকদের দাবি, আল-আরাফাহ পরিবহনের কোনো বৈধ পারমিট নেই। অথচ তারা হাজীগঞ্জে আমাদের শ্রমিকদের ওপর হামলা করেছে এবং মোবাইল ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়েছে। আমরা এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার চাই।
অন্যদিকে, আল-আরাফাহ এক্সপ্রেসের চালকরা জানান, তারা গত দুই বছর ধরে এই রুটে নিয়মিত বাস চালাচ্ছেন। মালিকপক্ষের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে শ্রমিকরা এখন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চান।
এ ব্যাপারে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আজিজুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক করতে চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার মহোদয় স্বয়ং হাজীগঞ্জ বাস কাউন্টার পরিদর্শন করেছেন। উভয় পক্ষের সাথে আলাপ-আলোচনা করে একটি স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে যানচলাচল স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন