

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যশোরে পারিবারিক কলহের জেরে শাশুড়িকে নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যার অভিযোগে পুত্রবধূ মরিয়ম বেগম (২০)-কে আটক করেছে জেলা ডিবি ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের যৌথ টিম। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার এ তথ্য জানান।
ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবীবসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সকিনা বেগম (৬০) ওই এলাকার লাল চাঁদ খলিফার স্ত্রী।
গত ২১ এপ্রিল সকালে সকিনা বেগমের ছেলে শহিদুল ইসলাম দোকানে যাওয়ার সময় তার স্ত্রী মরিয়ম জানান, বাসায় রান্না হয়নি, বাইরে খেয়ে নিতে হবে। এ সময় শহিদুল তার মায়ের খোঁজ করলে মরিয়ম বলেন, তিনি ‘তালিমে’ গেছেন।
রাতে বাড়ি ফিরে মাকে না পেয়ে আবার খোঁজ নেন শহিদুল। মরিয়মের কথাবার্তায় অসংগতি থাকায় তার সন্দেহ হয় এবং থানায় অভিযোগ করেন। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির সামনে একটি বস্তার ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শহিদুল ও তার বোন মরদেহটি শনাক্ত করেন।
খবর পেয়ে ডিবি ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের যৌথ টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। মরিয়মের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে শাশুড়ির সঙ্গে মরিয়মের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন বকাবকির জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ঘরে থাকা চাপাতি দিয়ে শাশুড়িকে জবাই করেন তিনি। পরে মরদেহ বস্তায় ভরে বাড়ির সামনে ফেলে দেন এবং রক্তমাখা চাপাতিটি ঘরের ওয়্যারড্রবের ভেতর লুকিয়ে রাখেন।
পরে তার দেখানো স্থান থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য করুন