

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার মধ্যে মৃত ব্যক্তির মরদেহ দাফন না দাহ, এ নিয়ে উত্তেজনার পর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষে প্রশাসন মরদেহ স্ত্রী-সন্তানের কাছে হস্তান্তর করেছে। পরে তাদের ইচ্ছায় ইসলাম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন হয়।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে বাগেরহাট ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ মোল্লাহাট থানায় নেওয়া হয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাই এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয়।
পরবর্তীতে মরদেহ মৃতের স্ত্রী ও সন্তানের কাছে হস্তান্তর করা হলে তাদের ইচ্ছানুযায়ী ইসলাম ধর্মের রীতি অনুসারে গোসল শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এর আগে ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিরোধের জেরে মরদেহ দাফন না দাহ, এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মরদেহ নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পুলিশ জানায়, মৃত ব্যক্তির নাম সুব্রত পোদ্দার কানু (৪৩) ছিলো, যিনি প্রায় ২১ বছর আগে এফিডেভিটের মাধ্যমে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নাম পরিবর্তন করে কাজী সোহাগ রাখেন। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার তেঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা শুকলাল পোদ্দার ও রিতা রানী পোদ্দারের ছেলে। তার স্ত্রী মমতাজ মিম এবং নয় বছর বয়সী ছেলে রয়েছে।
গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মোল্লাহাট উপজেলার দত্তডাঙ্গা রাইরসরাজ সেবাশ্রমে অবস্থানকালে তার মৃত্যু হয়। পরে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) স্ত্রী-সন্তানদের না জানিয়ে মরদেহ শ্মশানে নেওয়া হলে উত্তেজনা তৈরি হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতের স্ত্রী ও সন্তান ইসলামী রিতিতে দাফনের দাবি জানান। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
মৃতের মা রিতা রানী পোদ্দার দাবি করেন, তার ছেলে পূর্বে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন। এবং ইসলাম গ্রহণ ের পর আবার হিন্দু ধর্মে ফিরে আসেন। তবে তার পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে আসার কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি তিনি।
মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী রমজানুল হক বলেন, কাগজপত্র যাচাই ও পারিবারিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে এবং দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
মন্তব্য করুন