বুধবার
০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বুধবার
০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ভান্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় গৃহবধূর সাথে পরকীয়া সম্পর্কের পর বিয়ের প্রলোভনে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে নয় জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে ভাণ্ডারিয়া থানায় সোমবার দিনগত রাতে মামলাটি দায়ের করেন।

অভিযুক্ত আসামিরা হলেন, উপজেলার তেলিখালী ইউনিয়নের জুনিয়া গ্রামের মো. মাহফুজ আকন (২৮), মোঃ মিজান আকন (৩৫), মো. জাহাঙ্গীর আকন (৬০), আল আমিন হাওলাদার (৪৯), মো. হাসান (৩০), মো. আনোয়ার হোসেন সেপাই (২৯), মো. কাওছার খান (২৮), মো. মনির আকন (২৭) ও সাইফুল ইসলাম (২৮)। এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে সূত্রে জানা গেছে, ১২ বছর আগে ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী ওই গৃহবধূর বিয়ে হয় এবং তাদের সংসারে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি এর পূর্বপরিচিত মাহফুজ আকনের সঙ্গে ওই গৃহবধূর পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মাহফুজ আকন তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে।

এরপর ওই গৃহবধূ জীবিকার তাগিদে ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন। গত ২৬ মার্চ মাহফুজ তার ঢাকার বাসায় যান এবং ২৭ মার্চ দুপুর পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। এসময় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে মাহফুজ। ঘটনার সময় স্থানীয়রা মাহফুজকে আটক করলে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। পরে ফতুল্লা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়কে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে মাহফুজের ভাই মিজানুর রহমান সহ কয়েকজন বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। আসামির কথায় বিশ্বাস করে ভূক্তভোগি গৃহবধূ তার স্বামীকে তালাক দেন। কিন্তু তালাকের পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে আসামিরা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় এবং তাকে এড়িয়ে চলতে থাকে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় ভূক্তভোগি গৃহবধূ অভিযুক্ত মাহফুজ আকনের বাড়িতে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অন্যান্য আসামিরা তাকে মারধর করে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় আসামীরা।

নির্যাতনের একপর্যায়ে তাকে জোর করে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পথেও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় সড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় আসামিরা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সোমবার দিনগত রাতে ভাণ্ডারিয়া থানায় নির্যাতিত গৃহবধূ ভাণ্ডারিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয় ভাণ্ডারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, ভূক্তভোগি গৃহবধূও অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন