

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কুষ্টিয়ার মোটরসাইকেল বাজারে। বছরের শুরুতে বিক্রির হার সন্তোষজনক থাকলেও মার্চ মাস থেকে তা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। তেলের তীব্র সংকট ও সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় সাধারণ মানুষ নতুন বাইক কেনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ফলে লোকসানের মুখে পড়েছেন জেলার শোরুম মালিকরা।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সরেজমিনে কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল শোরুম ঘুরে দেখা যায়, সেখানে প্রায় ক্রেতাশূন্য। সাধারণত নতুন বাইক কেনার পাশাপাশি সার্ভিসিং সেন্টারে যে ভিড় থাকে,সেখানেও এখন নীরবতা। বিক্রি ও কাজের চাপ না থাকায় বিক্রয়কর্মী ও টেকনিশিয়ানরা অলস সময় পার করছেন।
কুষ্টিয়া হোন্ডা মোটরসাইকেলের ডিলার সরদার মটরস্-এর স্বত্বাধিকারী মোস্তফা কামাল বলেন,তেলের সংকটে মোটরসাইকেল বিক্রি বর্তমানে শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। আগে প্রতি মাসে শতাধিক বাইক বিক্রি হতো, যা বর্তমানে মাত্র ১৫ শতাংশে নেমেছে। এতে শোরুমের ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন দেওয়া এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
হিরো মোটরসাইকেলের ডিলার এ আর এন্টারপ্রাইজ-এর ম্যানেজার আক্তারুজ্জামান বলেন,জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারীতে মাসে গড়ে ১০০টির বেশি বাইক বিক্রি হলেও মার্চে তা মাত্র ৪০টিতে নেমেছে। গত ঈদে ৩০০টির বেশি বিক্রি হলেও এবারের ঈদে ২৭০টির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিক্রি হয়েছে মাত্র ১৪৫টি।
সুজুকি মোটরসাইকেলের ডিলার মা মটরস্ এর ম্যানেজার আকিব হাসান বলেন,জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারীতে যথাক্রমে ৮০ ও ৯০টির বেশি বাইক বিক্রি করেছি। কিন্তু এবারের ঈদে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও পূরণ হয়নি। তেলের সংকট না কাটলে এই ব্যবসায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিএ) কুষ্টিয়া কার্যালয়ের তথ্য মতে,জেলায় মোট নিবন্ধনকৃত মোটরসাইকেল রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার ৫ শত ১৯টি। জেলার ৬টি উপজেলায় প্রায় ১৩-১৫ টি মোটরসাইকেল বিক্রয়ের শোরুম রয়েছে।
বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় ড্রাইভিং লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন ছাড়া তেল না দেওয়ার কড়াকড়ি থাকলেও কুষ্টিয়ায় এখনো এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের বাড়তি কোনো চাপ নেই। বিআরটিএ-তে প্রতিদিন গড়ে ২০-২২টি মোটরসাইকেল নিবন্ধনের আবেদন জমা পড়ছে, যা আগের মতোই স্বাভাবিক রয়েছে।
মন্তব্য করুন