

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লালমনিরহাটে আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ঘর বাড়িসহ উৎতি ফসলে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। শিলাবৃষ্টির আঘাতে অনেকের ঘরের টিন ছিদ্র হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিনগত মধ্যরাতে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার উপর দিয়ে এ ঝড় বয়ে যায়।
জানা গেছে, শুক্রবার মধ্যরাতে হঠাৎ লালমনিরহাটের আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যায়। মুহুর্তে ঝড়ো বাতাসসহ আঘাত হানে শিলাবৃষ্টি। বড় বড় পাথর পড়ায় অনেকের ঘরের টিন ছিদ্র হয়ে ভিজে গেছে ঘরের আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় জিনিস। বাতাসে উড়ে গেছে ঘরবাড়ির বেড়াসহ ছাউনী। লন্ডভন্ড হয়েছে ঘর বাড়ি। ঝড় আর শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে উৎতি ফসল ভুট্টা, পিঁয়াজ রসুন, তামাক, বাদামসহ নানান জাতের সবজি খেত।
শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঘরবাড়ির লন্ডভন্ড হওয়ায় বেশ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ঘরের টিন উড়ে গিয়ে পড়েছে দুরের খোলা মাঠ আর গাছের মগ ডালে। সবে মাত্র মোচা আসা ভুট্টা গাছগুলো মাটির সাথে মিশে গেছে। এসব খেতের ভুট্টা নষ্টের পথে। ফসলের ক্ষতিতে দুঃচিন্তায় পড়েছেন জেলার চাষিরা। গাছ পড়ে বিভিন্ন এলাকার বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ সচল করতে কাজ করছে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন।
পুরো জেলায় এ ঝড় ও শিলাবৃষ্টি বয়ে গেলেও বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সদর উপজেলার হারাটি ও খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন, কালীগঞ্জের ভোটমারী ও কাকিনা ইউনিয়ন, আদিতমারী উপজেলা মহিষখোচা ইউনিয়ন ও তিস্তাচরাঞ্চলের মানুষ। এসব এলাকার বেশ কিছু গ্রাম লন্ডভন্ড হয়েছে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করতে মাঠপর্যয়ে কাজ করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
ভোটমারীর চাষি তমিজ উদ্দিন বলেন, চরা দামে সার বীজ সেচ দিয়ে চাষাবাদ করা তিন বিঘা জমির ভুট্টা খেত মাটির সাথে মিশে গেছে। মোচা আসা ভুট্টা গাছ মাটিতে পড়ে গেলে ভুট্টার ফলন হবে না। গাছগুলো দাড় করানোরও কোন উপায় নেই। পেটের খাবার তো দুরের ভুট্টা চাষে যা ঋন হয়েছে তা পরিশোধ নিয়ে চিন্তায় পড়েছি। শুধু ফসলের খেত নয়, ঘরের টিনও ছিদ্র হয়েছে পাথরের আঘাতে।
তামাক চাষি শাহ আলম বলেন, তামাক পাতা ভেঙে শুকাতে দেয়া হয়েছে। সেই তামাক পাতাসহ খেতে থাকা তামাক পাতা পাথরের আঘাতে লন্ডভন্ড হয়েছে। বৃষ্টির পানি পড়লে তামাকের গুণগত মানসহ ওজনও কমে যায়। সেক্ষেত্রে তামাকেও লোকসানের আশংকা দেখা দিয়েছে।
মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ হোসত বলেন, আমার ইউনিয়নের বেশ কিছু ঘরের টিন ঝড়ে উড়ে গেছে। প্রায় একশত পরিবার ঘর বাড়ি হারিয়েছে এ ঝড়ে। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করা হচ্ছে।
লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পুনবাসন কর্মকর্তা(অতিরিক্ত দায়িত্ব) মীর ফয়সাল আলী বলেন, জেলায় ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বেশ কিছু এলাকা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তাদের তালিকা করা হচ্ছে। ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। বরাদ্ধে এলে ক্ষতিগ্রস্থদের পুনবাসন করা হবে।
মন্তব্য করুন