

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বৈরী আবহাওয়ায় ঈদের নামাজ মসজিদে না ঈদগাহ মাঠে হবে-তা নিয়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২১ মার্চ) সকালে উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের চর এলঙ্গী আচার্য গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
আহতরা হলেন-চর এলঙ্গী আচার্য গ্রামের রবিউলের ছেলে রুবেল হোসেন (৩০), মুনার ছেলে গফুর (৪০) ও আলম (৪৫), শফিকের ছেলে শাকিল (২৫), আলমের ছেলে রিপন (২৬), আইয়ুবের ছেলে সরোয়ার (৪৫), সরোয়ারের ছেলে আশরাফুল (৩৫), ওসমানের ছেলে শাহিন (৩৫), মজিবরের ছেলে জিয়া (৩৭), লবু প্রামাণিকের ছেলে মুসা (৪৫) ও মন্টু (৫৫), মন্টু প্রামাণিকের ছেলে জুয়েল (২৭) এবং হিরু প্রামাণিকের স্ত্রী ফিরোজা খাতুন (৩৩)।
আহতরা বর্তমানে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল এবং নিজ নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গড়াই নদীর চরে অবস্থিত চর এলঙ্গী আচার্য গ্রামে অন্তত ১২০টি পরিবারের পাঁচ শতাধিক মানুষের বসবাস। তাদের ইবাদতের জন্য একটি মসজিদ ও একটি ঈদগাহ মাঠ রয়েছে। শনিবার ঈদুল ফিতরের দিন সকাল থেকেই গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছিল। সে কারণে ঈদগাহ কমিটি সকাল সাড়ে আটটার পরিবর্তে ঈদের জামাত সাড়ে ৯টায় নির্ধারণ করে।
এ নিয়ে গ্রামবাসী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যান। একাংশ মন্টু প্রামাণিকের নেতৃত্বে চর এলঙ্গী আচার্য জামে মসজিদে নামাজ শুরু করেন। এরপর ঈদগাহ কমিটির পক্ষ থেকে আলম, গফুর ও শাকিলসহ কয়েকজন প্রতিপক্ষকে ঈদগাহে আসার আহ্বান জানান। এ সময় তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার জেরে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হন।
সংঘর্ষে মন্টু প্রামাণিকের পক্ষের বেশ কয়েকটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গ্রামের চার ভাগের তিন ভাগ মানুষই এবার ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেননি বলে দাবি স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আহত রুবেল বলেন, “সকালে বৃষ্টির মধ্যে এক পক্ষ মসজিদে এবং আরেক পক্ষ ঈদগাহ মাঠে নামাজের পক্ষে অবস্থান নেয়। এ নিয়ে তর্কাতর্কি করতে করতে মারামারি শুরু হয়ে যায়। মারামারি ঠেকাতে গেলে জুয়েল, মন্টু ও মুসাসহ ১০-১২ জন বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেয়। আমাদের পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়ে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাধীন। অনেকেই ঈদের নামাজ পড়তে পারেননি।”
অভিযোগ অস্বীকার করে আহত জুয়েল বলেন, “বৃষ্টির কারণে মসজিদে ঈদের নামাজ শেষে খুতবার সময় আলম ও শহিদসহ অনেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা করেন। এতে আমি, আমার বাবা ও চাচাতো ভাবিসহ বেশ কয়েকজন আহত হই। এছাড়া আমাদের পক্ষের কিছু বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।”
শনিবার সন্ধ্যার দিকে ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। আহত মন্টু প্রামাণিক ও জুয়েলসহ বেশ কয়েকজনের বাড়িতে ভাঙচুরের চিহ্ন রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, “ঈদের নামাজ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মন্তব্য করুন