শনিবার
১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পানি সংকটে দিশেহারা রামগঞ্জের বোরো চাষিরা

মাহফুজ খান, রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর)
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম
পানি সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বোরো চাষিরা
expand
পানি সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বোরো চাষিরা

পানি সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার বোরো চাষিরা। মৌসুমের শুরুতে সামান্য পানি পাওয়ায় কোনোমতে বীজ রোপণ শেষ করেছিলেন কৃষকরা। কিন্তু বর্তমানে পানির তীব্র সংকটে ধানের চারা জ্বলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, অনেক জমিতে পানির অভাবে ধানের চারা শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে করে চলতি মৌসুমে উপজেলার প্রায় ১০ হাজার হেক্টর বোরো চাষের জমি হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, মৌসুম শুরু হওয়ার আগ থেকেই পানি সংকট নিরসনে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বছরের শুরুতে বারবার যোগাযোগ করে কিছু পানি সরবরাহ করা সম্ভব হলেও কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি দেওয়া যায়নি।

কৃষি বিভাগের মতে, এ সংকটের অন্যতম কারণ হলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় সেচ প্রকল্পের জন্য নির্মিত মেশিনারিজগুলোর বয়স প্রায় ৬০ বছর পেরিয়ে যাওয়া।

দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে এসব যন্ত্রপাতির অধিকাংশই এখন প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে। এছাড়া সিআইপিভুক্ত খালগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় অনেক স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।

লক্ষ্মীপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, রামগঞ্জে কোনো নদী না থাকা, দীর্ঘদিন ধরে খাল সংস্কার না হওয়া এবং সিআইপিভুক্ত খালে পানিসরবরাহের মেশিনারিজের অধিকাংশ অকেজো হয়ে পড়ায় পানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

তবে সংকট নিরসনে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। জেলা পর্যায়ে ২৭টি খাল খনন ও সংস্কারের প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯টি খাল রামগঞ্জ উপজেলায়।

এর মধ্যে রামগঞ্জের ৪ নম্বর ইছাপুর ও ৫ নম্বর চন্ডিপুর ইউনিয়নে এন–৩ খাল খননের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া রামগঞ্জ ও রায়পুর উপজেলা মিলিয়ে ১০৫ কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্পের কাজ অনুমোদন করা হয়েছে।

এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানান কর্মকর্তারা। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে কৃষকদের পানি সংকট অনেকটাই দূর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।

তবে চলতি মৌসুমে তাৎক্ষণিক কোনো সমাধানের আশার আলো দেখাতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কৃষকদের ক্ষতি কিছুটা লাঘব করতে প্রণোদনার অংশ হিসেবে ভিজিএফের আওতায় ১০ কেজি চাল দেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে।

তবে কৃষকদের প্রশ্ন, ভরা মৌসুমে ধান চাষ করে সারা বছরের খাদ্য মজুদ নিশ্চিত করার জায়গায় মাত্র ১০ কেজি চালের প্রণোদনা কতটা কার্যকর হবে?

যেখানে বলা হয়, “কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ”, সেখানে পানির অভাবে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি অনাবাদি হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষক, ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের কৃষি অর্থনীতি-এমন আশঙ্কাই করছেন সংশ্লিষ্টরা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন