

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নওগাঁর বিস্তীর্ণ আমবাগান ভরে উঠেছে বসন্তের শুরুতেই মুকুলের মিষ্টি সুবাসে। ভোরের কোমল আলো ফুটতেই গ্রামের বাতাসে ভেসে আসে আমের মুকুলের স্নিগ্ধ ঘ্রাণ। গাছের ডালে ডালে হলুদাভ মুকুলের ছড়াছড়ি প্রকৃতি যেন নিজ হাতে সাজিয়েছে সম্ভাবনাময় এক আম মৌসুমের প্রেক্ষাপট।
অনুকূল আবহাওয়ার কারণে জেলার প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ আমগাছে ইতোমধ্যে মুকুল এসেছে বলে জানা গেছে। চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্বস্তি ও আশাবাদ। গত মৌসুমের নানা শঙ্কা কাটিয়ে এবার বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন তারা।
জেলার সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদন হয় সাপাহার উপজেলা, পোরশা উপজেলা ও পত্নীতলা উপজেলায়। সম্প্রতি সাপাহার ও পোরশার বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ বাগানেই গাছে গাছে মুকুলে ছেয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত বড় কোনো রোগবালাই না দেখা গেলেও সতর্কতামূলকভাবে অনেক চাষি ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নওগাঁ জেলায় ৩০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। গত বছর ছিল ৩০ হাজার ৩০০ হেক্টর। ২০২৩-২৪ মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৩১ হাজার টন, তবে বিরূপ আবহাওয়ায় উৎপাদন নেমে আসে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টনে। এ বছর ৪ লাখ ৫০ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাপাহারের বাহাপুর গ্রামের চাষি রাকিব হাসান জানান, তার ১৪ বিঘার বাগানের অধিকাংশ গাছে এ বছর মুকুল এসেছে। গত বছর খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৮ লাখ টাকা লাভ করেছিলেন। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এবার আরও বেশি আয় হবে বলে আশা করছেন তিনি।
পোরশার আমইড় গ্রামের কৃষক মমতাজুর রহমান বলেন, প্রতি বিঘায় আমচাষে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। গত বছর খরার কারণে মুকুল ঝরে ফলন কম হয়েছিল। তবে এবার সব ঠিক থাকলে বিঘাপ্রতি ১ লাখ ১০ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার আম বিক্রির আশা করছেন।
নওগাঁর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হোমায়রা মণ্ডল বলেন, আম সংগ্রহের পর থেকেই কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়। বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। মুকুল সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া সহায়ক থাকলে চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
মন্তব্য করুন