

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফাল্গুনের রঙিন আবেশে, আবিরের উচ্ছ্বাস আর ভজন-কীর্তনের মাধুর্যে এক অনন্য উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছিল বরিশাল। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দোল পূর্ণিমা উদযাপনে নগরীর মন্দিরে মন্দিরে ছিল ভক্তদের ঢল, পূজা-অর্চনা আর রঙ খেলার আনন্দঘন আয়োজন।
ফাল্গুনী পূর্ণিমা তিথি উপলক্ষে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন মন্দিরে সকাল থেকেই শুরু হয় পূজা ও আরাধনা। ভক্তরা রাধা-কৃষ্ণের প্রতি ভক্তি নিবেদন করে দিনটি পালন করেন। অনেকেই নিজ নিজ বাসভবনেও পূজা-অর্চনার আয়োজন করেন। পূজা শেষে শুরু হয় আবির খেলা—শিশু থেকে প্রবীণ, নারী-পুরুষ সবাই অংশ নেন রঙের উৎসবে। মুহূর্তেই রঙে রঙিন হয়ে ওঠে চারপাশ।
দোল উৎসবের সবচেয়ে বড় আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় নগরীর ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী শংকর মঠ প্রাঙ্গণে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর সেখানে নামে মানুষের ঢল। তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন এ আয়োজনে। আবিরে রাঙা হয়ে ওঠে পুরো মঠ চত্বর। ভজন-কীর্তনের সুর আর সঙ্গীতের তালে উৎসবের আবহ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ধর্মীয় আবহের সঙ্গে মিশে যায় সার্বজনীন আনন্দের উচ্ছ্বাস। উৎসবে অংশ নেওয়া কয়েকজন তরুণ-তরুণী জানান, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নিরাপদ পরিবেশে এমন বৃহৎ আয়োজনে অংশ নিতে পেরে তারা আনন্দিত। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ আয়োজন আরও বড় পরিসরে এবং সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ফাল্গুনী পূর্ণিমা বা দোলপূর্ণিমার দিনে ভক্তরা রাধা-কৃষ্ণের মূর্তিতে আবির অর্পণ করেন এবং ভজন-কীর্তনের মাধ্যমে পরস্পরের সঙ্গে রঙ খেলেন। এ তিথি ‘গৌরপূর্ণিমা’ নামেও পরিচিত। বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, এদিনই বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক চৈতন্য মহাপ্রভু-এর আবির্ভাব তিথি।
উৎসবকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে জোরদার করা হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী দোল পূর্ণিমা উদযাপন সম্পন্ন হয়।
রঙ, ভক্তি আর সম্প্রীতির এ মিলনমেলা যেন বরিশালের আকাশে ছড়িয়ে দিল ফাল্গুনের এক উজ্জ্বল বার্তা—ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেও লুকিয়ে আছে সৌহার্দ্য ও সাম্যের রঙিন প্রকাশ।
মন্তব্য করুন