

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নেত্রকোনার মদন উপজেলার কাওয়ালী বিন্নী গ্রামে নানার বাড়িতে বেড়াতে যায় ৫ বছরের শিশু আরফান ইসলাম আরিয়ান। এরপর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নানার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশুটি। নিখোঁজের ৪ দিন পেরিয়ে গেলেও শিশুটির সন্ধান করতে পারেনি পুলিশ। এ অবস্থায় শিশুটির পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
নিখোঁজ শিশুটি কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফরপুর ইউনিয়নের চৌকিধরা গ্রামের সানাউল্লাহ মিয়ার ছেলে।
শিশুটির পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আরফান ইসলাম আরিয়ানের মা আয়েশা আক্তার চাকরির সুবাদে চট্রগ্রামে বসবাস করেন। গত ১৫-২০ দিন আগে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসে আরিয়ান। গত (২৫ ফেব্রয়ারি) বুধবার নানা বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় সে। ঘটনার ৫ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো নিখোঁজ শিশুর সন্ধান মিলেনি। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে তার নানা বুলবুল গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার মদন থানায় একটি নিখোঁজের সাধারণ ডায়রী করে। ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবরি দল শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী স্থানীয় মগড়া নদীর বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু শিশু আরিয়ানের কোনো সন্ধান পায়নি।
তবে পরিবারের দাবি, শিশু আরিয়ানকে অপহরণ করা হয়েছে। গ্রামের প্রতিপক্ষের লোকজনের সাথে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তারা শিশুটিকে অপরহণ করে থাকতে পারে বলে অভিযোগ আরিয়ানের পরিবারের।
এদিকে শিশু আরিয়ান নিখোঁজের পর থেকেই প্রতিপক্ষের ৭-৮টি পরিবার বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। এমনকি কয়েকজন তাদের ঘরের গরু-ছাগলও সরিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
শিশুটির নানী শিখা আক্তার বলেন, আমার নাতী গত ১৫-২০ দিন আগে চট্রগ্রাম থেকে আমার বাড়িতে বেড়াতে আসে। গত বুধবার আমি বাড়িতে কাজ করছিলাম। হঠাৎ দেখি আমার নানী নেই। পরে তাকে খোঁজাখুজি শুরু করি। খোঁজাখুঁজির সময় প্রতিপক্ষের লক্ষু মিয়া স্ত্রী আলেছা আক্তার আমার নাতী স্থানীয় মিলন বাজারের দিকে গেছে বলে জানায়। পরে আমি সেদিকে ছুটে গেলে আর থাকে পাইনি। তবে মগড়া নদীর পাশে গেলে সেখানে তার পড়নের জামা ও প্যান্ট পাওয়া যায়।
তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে আরো বলেন, আমি দোষ করতে পারি, আমার অবুঝ নাতী কি দোষ করেছে? আমার নাতী নদীতে নামতে পারে না। ও এখানে কোনো দিন আসেনি। আমার নাতীকে অপহরণ করা হয়েছে। যারা এর সাথে জড়িত তাদের শাস্তি চাই আমি এবং আমার নাতীকে জীবিত অবস্থায় ফেরত চাই।
শিশুটির মা আয়েশা আক্তার বলেন, আমি কোনো কিছু চাই না। আমার ছেলেকে জীবিত ফেরত চাই। আমার ছেলে ফেরত এলে আপনেরা সব কিছু নিয়ে নিয়েন। আমার কোনো আফসোস থাকবে না। তবু আমার অবুঝ ছেলেকে ফেরত চাই।
এদিকে প্রতিপক্ষের লক্ষু মিয়ার স্ত্রী আলেছা আক্তার বলেন, তার নাতী কোথায় গেছে আমি শিখা আক্তারকে বলিনি। আমাকে নিয়ে এমনিতেই এসব কথা বলছে তারা। তাদের সাথে আমাদের জমি নিয়ে ঝামেলা থাকতে পারে। কিন্তু ওই শিশুটার সাথে কি? আপনাদের পুরুষ মানুষ বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে কেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু তারা আমাদের দোষারোপ করছে, তাই আমাদের পুরুষ লোকজন বাড়িতে নেই। আমরা তো বাড়িতে আছি। শিশু নিখোঁজের বিষয়ে কিছুই জানি না আমরা।
ময়মনসিংহ ডুবুরি দলের লিডার মহি উদ্দিন বলেন, আমরা শুক্রবার দিনব্যাপী অভিযান চালিয়েও শিশুটির কোনো সন্ধান পাইনি। তাই উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করে চলে এসেছি। নদীতে শিশুটি থাকতে হয়তো অবশ্যই পাওয়া যেতো।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মোঃ হাফিজুল ইসলাম বলেন,যেহেতু নিখোঁজ বাচ্চাটি নদীতে জীবিত বা মৃত অবস্থায় ডুবুরি দল খোঁজে পায়নি,সেহেতু আমরা আশাবাদী খুব দ্রুতই বাচ্চাটিকে জীবিত উদ্বার করতে পারব।
মন্তব্য করুন