

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পটুয়াখালীর দশমিনায় ইফতার মাহফিলে খাবার বিতরণ নিয়ে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার মধ্যে এক সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলা সদরের দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। ওই সাংবাদিক হলেন সাফায়েত হোসেন।
তিনি দৈনিক মানবজমিনের দশমিনা প্রতিনিধি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক নুর।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমবার নির্বাচনী এলাকা দশমিনা উপজেলায় আগমন উপলক্ষে গণসংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে গণঅধিকার পরিষদ। ইফতারের সময় খাবার বিতরণে অনিয়ম ও স্বল্পতার অভিযোগে উপস্থিত রোজাদারদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়।
এ সময় দৈনিক মানবজমিনের দশমিনা উপজেলা প্রতিনিধি সাফায়েত হোসেন ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের কয়েকজন নেতা–কর্মী তাঁর ওপর হামলা চালান। পরে স্থানীয় বিএনপির নেতা–কর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করেন।
আহত সাংবাদিককে প্রথমে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে ভর্তি করেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
দৈনিক মানবজমিনের দশমিনা উপজেলা প্রতিনিধি সাফায়েত হোসেন বলেন, প্রতিমন্ত্রীর ইফতার মাহফিলে খাবার বিতরণে বিশৃঙ্খলা এবং খাবার না পেয়ে শত শত রোজাদার চলে যাওয়ার ঘটনা তিনি পেশাগত দায়িত্ববোধ থেকে সংবাদ আকারে প্রকাশ করেন। সংবাদ প্রকাশের পর গণঅধিকার পরিষদের ২০ থেকে ৩০ জন নেতা–কর্মী তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
তিনি অভিযোগ করেন, হামলার পর তাঁকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে পটুয়াখালী জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিপলু খাঁন এসে তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করেন।
সাফায়েত বলেন, “সংবাদে বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে গিয়ে আমি হামলার শিকার হয়েছি। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে সত্য ঘটনা তুলে ধরা আমার দায়িত্ব। এ ঘটনায় আমি দৃষ্টান্ত বিচারের দাবী করছি।”
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক নুর বলেন, “ইফতারের খাবার বিতরণে কিছু বিশৃঙ্খলার কথা শুনেছি। তবে কোনো সাংবাদিক লাঞ্ছিত হয়েছেন—এমন তথ্য আমার জানা নেই।”
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাইন পারভেজ বলেন, “ঘটনার বিষয়ে জেনেছি। হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মন্তব্য করুন
