শনিবার
২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন শেয়ারবাজারে গাঁজা নিয়ে প্রতিযোগিতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩১ এএম
মার্কিন শেয়ারবাজারে গাঁজা নিয়ে প্রতিযোগিতা। ছবি: সংগৃহীত
expand
মার্কিন শেয়ারবাজারে গাঁজা নিয়ে প্রতিযোগিতা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দুই শেয়ারবাজার—নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ (এনওয়াইএসই) ও নাসডাকের মধ্যে চলছে তীব্র প্রতিযোগিতা। এবার এই প্রতিযোগিতার নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে দেশটির গাঁজা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

‘অন দ্য মানি’র বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের আইনি বাধা কিছুটা শিথিল হওয়ায় গাঁজা কোম্পানিগুলোর প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আনার তোড়জোড় বেড়েছে। ফলে সম্ভাবনাময় এই শিল্পের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের তালিকাভুক্ত করতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে দুই শেয়ারবাজার।

গত ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক নির্বাহী আদেশে গাঁজাকে ‘শিডিউল ৩’ নিয়ন্ত্রিত দ্রব্যের তালিকায় নামিয়ে আনা হয়। এর ফলে চিকিৎসাক্ষেত্রে গাঁজার ব্যবহারের সুযোগ আরও বিস্তৃত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (ডিইএ) এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়।

রাজ্য পর্যায়ে গাঁজা বৈধ হলেও এতদিন কেন্দ্রীয় বিধিনিষেধের কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকিং ও মূলধন সংগ্রহে নানা বাধার মুখে ছিল। আইনি জটিলতা কমে আসায় এখন মূলধন বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

এই বিশাল বাজারের দখল নিতে এনওয়াইএসই ও নাসডাকের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের এই শিল্পের বার্ষিক বাজারমূল্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ফলে বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাজারটি উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনায় শেয়ারবাজারগুলোও গাঁজা কোম্পানিগুলোকে নিজেদের তালিকায় আনতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

এই দৌড়ে আপাতত কিছুটা এগিয়ে রয়েছে এনওয়াইএসই। ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচভিত্তিক গাঁজা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্লাস হাউস ব্র্যান্ডস’ গত ৩০ জুন এনওয়াইএসইতে তালিকাভুক্ত হয়। ফ্লোরিডার প্রতিষ্ঠান ‘ট্রুলাইভ’-কেও নিজেদের তালিকায় টেনেছে এনওয়াইএসই।

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করতে দুই এক্সচেঞ্জের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। গ্লাস হাউসের এক প্রতিনিধি জানান, এনওয়াইএসইর সঙ্গে আলোচনার মধ্যেই নাসডাক দ্রুততম সময়ে তালিকাভুক্তির প্রস্তাব নিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল।

শেয়ার লেনদেন বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্মে হলেও তালিকাভুক্তি থেকে এক্সচেঞ্জগুলোর বড় অংশের আয় আসে। নামী শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি একটি কোম্পানির জবাবদিহি ও নিয়মনীতির প্রতি আস্থা বাড়ানোর পাশাপাশি ব্র্যান্ডের সুনামও বাড়ায়।

প্রযুক্তি খাতের এনভিডিয়া, মাইক্রোসফট, অ্যাপল ও অ্যামাজনের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর পছন্দ নাসডাক। অন্যদিকে এনওয়াইএসইতে ব্যাংকিং, জ্বালানি ও স্বাস্থ্য খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর আধিপত্য বেশি।

সম্প্রতি ওয়ালমার্টকে এনওয়াইএসই থেকে নিজেদের তালিকায় নিয়ে বড় চমক দিয়েছে নাসডাক। তালিকাভুক্তির তুলনামূলক কম খরচও নাসডাকের অন্যতম সুবিধা। এনওয়াইএসইতে বছরে প্রায় ৫ লাখ ডলার খরচ হলেও নাসডাকে তা অর্ধেকেরও কম।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিকের মতো প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তি নিয়েও দুই শেয়ারবাজারের মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে। তবে আইনি বাধা শিথিল হওয়ায় গাঁজা শিল্পও এখন এনওয়াইএসই ও নাসডাকের বড় প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে গাঁজার ওপর কেন্দ্রীয় বিধিনিষেধ আরও শিথিল হতে পারে। এতে চিকিৎসার পাশাপাশি বিনোদনমূলক ব্যবহারের জন্য গাঁজাজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও মূলধন বাজারে প্রবেশের সুযোগ আরও বাড়তে পারে।

সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন