

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সর্বশেষ সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ৯২০ জনে পৌঁছেছে। দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ, আর ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
শুক্রবার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, উদ্ধার কার্যক্রম চলমান থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এর আগে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছিলেন, ভূমিকম্পে অন্তত তিন হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্য পরিদর্শন করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছাতে শুরু করেছে এবং বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল উদ্ধার অভিযানে যোগ দিচ্ছে।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজের ধীরগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকের অভিযোগ, ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মানুষদের দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না।
গত বুধবার রাতে মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মধ্যে দ্বিতীয় কম্পনটি ১৯০০ সালের পর ভেনেজুয়েতে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভূতত্ত্ববিদদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, উপকূলজুড়ে বিস্তৃত সান সেবাস্তিয়ান ফল্টে বড় ধরনের ভূ-চ্যুতি থেকেই এই জোড়া ভূমিকম্পের উৎপত্তি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ভূমিকম্পে সাধারণত দীর্ঘ ফল্ট লাইনে ভাঙন সৃষ্টি হয়, যা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনতে পারে।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা দিতে ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিভিল প্রোটেকশন মেকানিজমের আওতায় স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, লুক্সেমবার্গ ও চেকিয়া বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল ও মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে। এছাড়া সুইজারল্যান্ড, মেক্সিকো, এল সালভাদর ও নেদারল্যান্ডস থেকেও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছে।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় এবং অনেক এলাকা এখনও পুরোপুরি তল্লাশি করা সম্ভব না হওয়ায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
