

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মাঝামাঝি কৌশলগত অবস্থানের কারণে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। পাশাপাশি দ্বীপটিতে থাকা বিপুল খনিজ সম্পদ চীনা রপ্তানির ওপর নির্ভরতা কমানোর যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গত রোববার (৪ জানুয়ারি) আবারও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার। এটি এখন অত্যন্ত কৌশলগত জায়গা। চারপাশে রুশ ও চীনা জাহাজ চলাচল করছে। জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি ডেনমার্ক একা সামাল দিতে পারবে না।’
এর পরদিন হোয়াইট হাউজের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার জানান, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করা উচিত—এটাই ট্রাম্প প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান। সিএনএনের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিকভাবে লড়াইয়ে কেউ যাবে না।’
ট্রাম্পের এমন বক্তব্য ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ ধরনের বক্তব্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। গ্রিনল্যান্ডকে ভেনেজুয়েলা ও সামরিক হস্তক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত করা শুধু ভুল নয়, এটি অসম্মানজনকও।’
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান। টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি আরেকটি ন্যাটোভুক্ত দেশের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ন্যাটো এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামো ভেঙে পড়বে।’
এদিকে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন, যুক্তরাজ্য ও ডেনমার্কের নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ‘গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডবাসীর। গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক–সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র অধিকার রয়েছে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কেরই।’
সূত্র: সিএনএন
মন্তব্য করুন

