

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত রাখায় ভারতের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই নীতি পরিবর্তন না হলে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরও বেশি শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যক্তিগতভাবে একজন ভালো মানুষ হলেও ভারত সরকারের বর্তমান অবস্থান নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হলে ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ কমাতে হবে। অন্যথায় খুব শিগগিরই ভারত থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
এর আগে রাশিয়ার কাছ থেকে ব্যাপক পরিমাণে তেল কেনার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশে উন্নীত করে। তবে এত উচ্চ শুল্ক আরোপের পরও গত বছরের নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এই প্রবৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে নয়াদিল্লি, যার ফলে বাণিজ্য আলোচনায় ভারত সরকার এখন তুলনামূলক কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দাবির বিষয়ে খুব একটা ছাড় দিতে আগ্রহী নয় ভারত।
তবে প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান বজায় রাখলেও পর্দার আড়ালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সমঝোতার চেষ্টা চলছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, ভারত সরকার রাশিয়া থেকে তেল আমদানি দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেলের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এ জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবে দেশের তেল শোধনাগারগুলোর কাছ থেকে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তেলের সাপ্তাহিক তথ্য সংগ্রহ করছে।
ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অন্তত তিনবার ফোনে তার সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। গত মাসে দিল্লিতে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হলেও যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি।
মন্তব্য করুন

