

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। সোমবার দেশটির গণমাধ্যম জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসানে যেকোনো পরিকল্পনায় সাময়িক নয়, বরং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা থাকতে হবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখেও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি তেহরান। ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য চাপ বাড়ালেও ইরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্পের এক বিতর্কিত পোস্টে ইরানকে উদ্দেশ করে তীব্র ভাষা ব্যবহারের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ যাতায়াত করে। ভৌগোলিকভাবে এই প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ইরান ও ওমানের।
যুদ্ধ শুরুর পরপরই ইরান সতর্ক করে দেয়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করা হতে পারে। এরপর ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় শিপিং ও বীমা ব্যয় বেড়ে যায় এবং জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
পরবর্তীতে গোপন আলোচনার মাধ্যমে সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিটি জাহাজের জন্য প্রায় ২০ লাখ ডলার ‘টোল’ নেওয়া হচ্ছে, যা চীনা মুদ্রা ইউয়ানে পরিশোধ করা হচ্ছে।
তবে ভারত সরকার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের জন্য তারা কোনো ধরনের টোল দেয়নি। দেশটির নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের জন্য কোনো বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি আন্তর্জাতিকভাবে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কর্তৃত্ব স্বীকৃতি পায়, তাহলে দেশটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে। প্রতিটি তেলবাহী জাহাজ থেকে গড়ে ১০ থেকে ১৫ লাখ ডলার আদায় করলে মাসে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে যুদ্ধ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৩৮ শতাংশ বেশি।
বিশ্বের অনেক দেশে জ্বালানির দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে গড় জ্বালানি মূল্য গ্যালনপ্রতি ৪ ডলারের বেশি হয়েছে। তবে ভারত সরকার ভর্তুকি ও কর কমিয়ে আপাতত অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলে নতুন করে টোল আরোপ হলে আমদানিকারক দেশগুলোর জ্বালানি ব্যয় আরও বাড়তে পারে। যুদ্ধের আগে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ এই পথ দিয়ে আসত।
একই ধরনের টোল গ্যাসবাহী জাহাজের ক্ষেত্রেও আরোপ করা হলে ইরানের মাসিক আয় আরও প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করলে ইরান ভবিষ্যতেও মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজের চলাচল সীমিত করতে পারে। এতে নতুন করে উত্তেজনা ও সংঘাতের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি।
মন্তব্য করুন
