

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি আধুনিক যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান।
দেশটির সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, একদিনের ব্যবধানে দুটি পৃথক অভিযানে মার্কিন বাহিনীর দুটি যুদ্ধবিমান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এর একটি ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এবং অন্যটি হরমুজ প্রণালির আশপাশে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ইরানের প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।
ইরানি সামরিক বাহিনীর অধীন খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স-এর এক মুখপাত্র বলেন, আকাশসীমা সুরক্ষায় পরিচালিত প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই এ অভিযান চালানো হয়।
দিনের শেষ দিকে ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ আরও দাবি করে, তারা একটি মার্কিন এ-১০ যুদ্ধবিমানকেও আঘাত করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানটি পরে পারস্য উপসাগরে বিধ্বস্ত হয়।
এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, এ-১০ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হলেও এর পাইলট নিরাপদে রয়েছেন। তবে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ক্রু সদস্যদের একজনের অবস্থান নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এফ-১৫–এর এক ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে মার্কিন বাহিনী। তবে আরেকজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এ নিয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
শুক্রবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার এই ঘটনা ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনা বা যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
ট্রাম্পের ভাষায়, না, একেবারেই না। এটা যুদ্ধ, এবং আমরা যুদ্ধের মধ্যেই আছি।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবির পক্ষে কিছু দৃশ্যও প্রচার করেছে। সেখানে একটি ধ্বংসাবশেষ এবং প্যারাশুট-সংযুক্ত একটি ইজেকশন সিটের ছবি দেখানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব ছবি প্রকাশের পর ঘটনাটি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে, ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ-বাঘের ঘালিবাফ এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মার্কিন অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বারবার ‘বিজয়ের’ দাবিকে ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেন।
তার ভাষায়, বারবার ইরানকে পরাজিত করার দাবি করেও তারা এখন এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, যার কোনো সুস্পষ্ট কৌশল নেই।
তিনি আরও কটাক্ষ করে লেখেন, আমাদের পাইলটদের কেউ খুঁজে দিতে পারবেন?
তবে পুরো ঘটনায় এখন পর্যন্ত পেন্টাগন বা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ফলে ইরানের দাবির পূর্ণ সত্যতা এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা যখন ক্রমেই নতুন মাত্রা পাচ্ছে, তখন এই দুই যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্য করুন
