

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জন্মহার নতুন করে রেকর্ড পরিমাণে কমে গেছে চীনে। অতীতে এত নিচে আর নামেনি জন্মহার। এই হার কমেছে শতকরা ১৭ ভাগ। ফলে ২০২৫ সালেও টানা চতুর্থ বছরের মতো চীনের জনসংখ্যা কমেছে।
কমতে কমতে সেখানে জনসংখ্যা প্রায় ৩০০ বছর আগের অবস্থায় চলে গেছে। সন্তান জন্মদানে মানুষকে উৎসাহিত করতে বেইজিং নানা নীতি চালু করলেও তাতে কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নিবন্ধিত জন্মসংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৭৯ লাখ ২০ হাজারে। ২০২৪ সালের ৯৫ লাখ ৪০ হাজারের তুলনায় এই হার ১৭ শতাংশ কম। প্রতি হাজার মানুষের বিপরীতে জন্মহার নেমেছে ৫.৬৩ জনে। ১৯৪৯ সাল থেকে এ বিষয়ে রেকর্ড রাখা শুরু হয়।
তারপর প্রথমবারের মতো এবার এই হার সর্বনিম্ন। চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (এনবিএস) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে দেশটির মোট জনসংখ্যা ৩৩ লাখ ৯০ হাজার কমে ১৪০ কোটি ৫০ লাখে দাঁড়িয়েছে।
মৃত্যুসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ১০ হাজার, যা ২০২৪ সালে ছিল ১ কোটি ৯ লাখ ৩০ হাজার। উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনতত্ত্ববিদ ই ফুশিয়ান বলেন, ২০২৫ সালের জন্মসংখ্যা প্রায় ১৭৩৮ সালের সমপর্যায়ের। ওই সময় চীনের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১৫ কোটি।
জন্মহার বাড়াতে বেইজিং কয়েক বছর ধরে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। চলতি বছর সরকার প্রথমবারের মতো তিন বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ৯০ বিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ৯.৬৫ বিলিয়ন পাউন্ড) বরাদ্দ দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে শিশু পরিচর্যা ভর্তুকি চালু করেছে। পাশাপাশি সন্তান জন্মসংক্রান্ত সব খরচ, এমনকি আইভিএফ চিকিৎসাও জাতীয় স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কিন্তু উচ্চ বেকারত্ব ও মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সময়ে সন্তান লালনপালনের ব্যয় এখনও তরুণদের জন্য বড় বাধা। এক উইবো ব্যবহারকারী লিখেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কেউ সন্তান নিতে চাইছে, এটাই তো এক বিস্ময়। একটি চীনা গবেষণা সংস্থার হিসাব বলছে, চীনে একটি শিশুকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত বড় করতে গড়ে ৫ লাখ ৩৮ হাজার ইউয়ান খরচ হয়, যা মাথাপিছু জিডিপির ৬.৩ গুণেরও বেশি। সে তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে এ অনুপাত ৪.১১ গুণ এবং জাপানে ৪.২৬ গুণ। বড় শহরগুলোতে এই ব্যয় আরও বেশি।
১৯৮০ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত দশকের পর দশক ধরে চালু থাকা একসন্তান নীতি বর্তমান প্রজন্মের মানসিকতায় গভীর প্রভাব ফেলেছে। অনেকেই এখন ছোট পরিবারকেই স্বাভাবিক মনে করেন। একই কারণে সন্তান ধারণের বয়সী মানুষের সংখ্যাও দ্রুত কমছে। ফলে সমাজ দ্রুত বয়স্ক হয়ে উঠছে। এ বছর সরকার ভ্যাটমুক্ত পণ্যের তালিকা থেকে কনডম বাদ দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, গর্ভধারণ এড়ানো কঠিন করতেই এই পদক্ষেপ। যদিও সরকারি কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে গর্ভনিরোধক এখনো পাওয়া যাচ্ছে, তবু অনলাইনে অনেক চীনা নাগরিক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে জন্মহার ভবিষ্যতে আরও কমবে।
২০২৫ সালে প্রতি হাজারে মৃত্যুহার দাঁড়িয়েছে ৮.০৪, যা ১৯৬৮ সালের পর সর্বোচ্চ। ২০২২ সাল থেকেই চীনের জনসংখ্যা সংকুচিত হচ্ছে, যা অভ্যন্তরীণ ভোগ বাড়ানো ও ঋণ নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলছে। এনবিএসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৩ ভাগ মানুষের বয়স ৬০ বছরের বেশি।
ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৪০ কোটিতে পৌঁছাবে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির মোট জনসংখ্যার সমান। ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মক্ষেত্র ছেড়ে যাবে। এরই মধ্যে অবসর গ্রহণের বয়স বাড়ানো হয়েছে। পুরুষদের ৬০ থেকে ৬৩ এবং নারীদের ৫৫ থেকে ৫৮ বছর করা হয়েছে।
২০২৪ সালে চীনে বিয়ের সংখ্যা ২০ ভাগ কমে দাঁড়ায় ৬১ লাখে, যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পতন। সাধারণত বিয়ের হার জন্মহারের অগ্রদূত হিসেবে কাজ করে।
তবে ২০২৫ সালের মে মাসে দম্পতিদের নিজ এলাকার বাইরে যেকোনো স্থানে বিয়ে নিবন্ধনের সুযোগ দেয়ার পর তৃতীয় প্রান্তিকে বিয়ে বেড়েছে ২২.৫ ভাগ। এতে দীর্ঘদিনের পতন থামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন

