

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জ্যৈষ্ঠের তীব্র গরমে দেশজুড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঢাকাসহ দেশের ৪০টিরও বেশি জেলায় তাপপ্রবাহ চলছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ পরিস্থিতি আরও অন্তত তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সোমবার (১ জুন) প্রকাশিত দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানিয়েছে, জুন মাসে সারাদেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ে দিনের পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। মাসজুড়ে দুই থেকে তিন দফা মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তা মৃদু তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি হলে মাঝারি তাপপ্রবাহ এবং ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ালে সেটি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, জুন মাসের প্রথমার্ধে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দেশজুড়ে বিস্তার লাভ করতে পারে। এ মাসে পাঁচ থেকে সাত দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রঝড় হতে পারে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে একটি নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে।
এ সময় দেশের প্রধান নদ-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকলেও বিচ্ছিন্ন ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু নদীর পানি সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটির পর্যালোচনায় বলা হয়, মে মাসে সারাদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হয়েছে, অন্যদিকে অন্যান্য বিভাগে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টি হয়েছে।
মে মাসে দুটি দফায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। ওই মাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় চুয়াডাঙ্গায়, ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয় দিনাজপুরে, ১৪৪ মিলিমিটার।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, চলমান তাপপ্রবাহ আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে যেসব এলাকায় বৃষ্টি হবে, সেখানে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসবে।