

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের কেরালা সফর ঘিরে যে বিপুল প্রচার-প্রচারণা হয়েছিল, সেটি নিয়ে এবারই উঠল গুরুতর প্রশ্ন। রাজ্য সরকারের প্রাথমিক তদন্তে প্রায় ১২৬ কোটি রুপির আর্থিক গরমিলের অভিযোগ সামনে এসেছে। এমনকি কেরালায় আর্জেন্টিনা দলের ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে দলটির সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিই হয়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেরালার ক্রীড়ামন্ত্রী ও জে জানিশকে দেওয়া এক প্রতিবেদনে দপ্তরের বিশেষ সচিব এন প্রশান্ত বিষয়টি আরও তদন্তের সুপারিশ করেছেন। তিনি ভিজিল্যান্স বিভাগ ও কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত মেসি ও আর্জেন্টিনা দলের কেরালা সফরের প্রচারকে কেন্দ্র করে। সফর ঘিরে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছিল। বড় অঙ্কের স্পনসরও সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে পরে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী ভি আব্দুরাহিমান অভিযোগ করেন, আর্জেন্টিনা কেরালায় খেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রাখেনি। তার দাবি ছিল, এ জন্য অর্থও পাঠানো হয়েছিল।
সরকার পরিবর্তনের পর বিষয়টি নতুন করে খতিয়ে দেখা শুরু হয়। প্রাথমিক তদন্তে ক্রীড়া বিভাগের কর্মকর্তারা দেখতে পান, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সঙ্গে কেরালা সরকার কিংবা সফরের প্রধান উদ্যোক্তা রিপোর্টার ব্রডকাস্টিং কোম্পানির (আরবিসি)—কারও মধ্যে আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তির প্রমাণ নেই।
আরবিসির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, আর্জেন্টিনা দলকে কেরালায় আনতে প্রায় ১২৬ কোটি রুপি আগাম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তদন্তকারীদের কাছে এএফএকে অর্থ দেওয়ার কোনো ব্যাংক নথি, অর্থ গ্রহণের স্বীকৃতি বা সংশ্লিষ্ট দলিল উপস্থাপন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
শুধু অর্থ লেনদেন নয়, মেসি ও আর্জেন্টিনা দলের সফর নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্রও আরবিসি দেখাতে পারেনি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কেরালা সরকার, আরবিসি ও এএফএর মধ্যে সফর আয়োজনের বিষয়ে কোনো প্রস্তাব, সম্মতি বা চুক্তির নথি পাওয়া যায়নি বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, বিদেশে অর্থ পাঠানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেনদেনের অনুমতি চেয়েছিল আরবিসি। সরকার সেই অনুমতি দিলেও ওই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এএফএকে অর্থ পাঠানোর কোনো প্রমাণ তদন্তকারীদের দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
ওই মার্কিন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই দেশটিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত চলার তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ওই প্রতিষ্ঠানকে কেন বেছে নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ ছাড়া সফরের সম্ভাব্য আয়োজনের জন্য সরকারি অবকাঠামো ব্যবহারের পরিকল্পনা, বেসরকারি স্পনসর নির্বাচন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তদন্ত কমিটি। সরকারি নিয়মকানুন অনুসরণ না করার অভিযোগও রয়েছে আরবিসির বিরুদ্ধে।
মেসি ও আর্জেন্টিনা দলের সম্ভাব্য কেরালা সফর ঘিরে একসময় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল। ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ম্যাচ দেখার আগ্রহও ছিল তুঙ্গে। কিন্তু প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসা তথ্য সেই আয়োজনের আইনগত ভিত্তি ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে।
তদন্ত প্রতিবেদন ইতিমধ্যে কেরালার মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এখন পরবর্তী তদন্তে অর্থের প্রকৃত গন্তব্য, লেনদেনের সত্যতা এবং সফর আয়োজনের নামে কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।

