মঙ্গলবার
০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চীনের সঙ্গে দারুণ লড়েও হারল বাংলাদেশ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
expand
চীনের সঙ্গে দারুণ লড়েও হারল বাংলাদেশ

এএফসি উইমেন্স এশিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বে শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশ লড়ল সাহস নিয়ে, শৃঙ্খলা নিয়ে, পরিকল্পনা নিয়ে। স্কোরলাইন ২-০ হলেও ম্যাচের গল্প কেবল দুই গোলের নয়; এটি প্রতিরোধ, প্রত্যাবর্তন আর আত্মবিশ্বাসের গল্পও।

৪৬ বছর পর মহাদেশীয় প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তন। ১৯৮০ সালে পুরুষদের এশিয়ান কাপে অংশ নেওয়ার পর এবার প্রথমবারের মতো নারী আসরে নামল বাংলাদেশ। সেই ঐতিহাসিক ম্যাচেই প্রতিপক্ষ ছিল এশিয়ার পরাশক্তি চীন। যারা নয়বারের চ্যাম্পিয়ন, ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে যাদের অবস্থান ১৭তম। বিপরীতে বাংলাদেশ ১১২তম। কাগজে-কলমে ব্যবধান স্পষ্ট, কিন্তু মাঠে সেই ব্যবধান পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।

শুরু থেকেই চীন খেলেছে উচ্চ ডিফেন্স লাইনে। মাঝমাঠে দখল প্রতিষ্ঠা করে উইং দিয়ে আক্রমণ সাজানো ছিল তাদের মূল কৌশল। প্রথম ১০ মিনিটেই কয়েকটি আক্রমণ, কর্নার এবং দূরপাল্লার শট- বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে।

তবে গোলকিপার মিলির আত্মবিশ্বাসী অবস্থান, শিউলি আজিমের গোললাইন ক্লিয়ারেন্স এবং ডিফেন্সের সংগঠিত অবস্থান চীনের একাধিক সুযোগ ভেস্তে দেয়। ২৪ মিনিটে ওয়াং সুয়াংয়ের হেডে বল জালে গেলেও ভিএআরের সিদ্ধান্তে অফসাইড ধরা পড়ে। বাংলাদেশ তখনও সমতায়।

১৪ মিনিটে বাংলাদেশ সেরা সুযোগ পায়। বাঁ প্রান্ত থেকে ঋতুপর্ণার বাঁ পায়ের ভাসানো শট গোলমুখে ঢুকছিল। চীনের গোলকিপার চেন চেনের দারুণ সেভ না হলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত। সেই মুহূর্তে বোঝা যায়, সুযোগ পেলে বাংলাদেশও আঘাত হানতে পারে।

৪৪ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচ ছিল গোলশূন্য। এরপর হঠাৎ করেই ছন্দপতন। ৪৪ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ওয়াং সুয়াংয়ের দুরপাল্লার শট জালে। যোগ করা সময়ের শুরুতে (৪৬’) ঝ্যাং রুইয়ের নেওয়া শট ডিফেন্ডার কোহাতি কিসকুর পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোল (২–০)। মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চীনের দিকে চলে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল চীনই। তবে গোল আর পায়নি তারা। ম্যাচের বেশির ভাগ সময় রক্ষণ সামলাতে হলেও গোল হজম না করে দ্বিতীয়ার্ধ শেষ করা বাংলাদেশের জন্য বড় মানসিক শক্তি। বিশেষ করে এমন একটি দল, যারা শেষ ১০ ম্যাচে গড়ে ২.৬ গোল করেছে, তাদের বিপক্ষে দুই গোলেই সীমাবদ্ধ রাখা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক দিক।

ঋতুপর্ণা দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও দূরপাল্লার শট নিয়ে চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সমীকরণ বদলানো সম্ভব হয়নি।

এই জয়ে ১ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে (+২) দ্বিতীয় স্থানে চীন। সমান পয়েন্ট নিয়ে +৩ গোল ব্যবধানে শীর্ষে উত্তর কোরিয়া। বাংলাদেশ ১ ম্যাচে ০ পয়েন্ট ও -২ গোল ব্যবধানে তৃতীয়। উজবেকিস্তান -৩ গোল ব্যবধানে চতুর্থ।

ফলাফল প্রত্যাশিত ছিল- র‍্যাঙ্কিং, অভিজ্ঞতা ও ইতিহাস সব দিক থেকেই চীন এগিয়ে। কিন্তু ম্যাচের দীর্ঘ সময় ধরে সমান তালে লড়াই, সংগঠিত রক্ষণ, ভিএআরে বাঁচা এবং দ্বিতীয়ার্ধে গোল না খাওয়া; এসবই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

স্কোরলাইন হয়তো ২-০। কিন্তু আত্মবিশ্বাসের স্কোরবোর্ডে বাংলাদেশ শূন্য নয়। এই লড়াই ভবিষ্যতের পথচলায় শক্তি জোগাবে- এটাই এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন