

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাচের ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন জানিয়েছে। এখন আইসিসির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বিসিবি।
তবে বাংলাদেশই প্রথম কোনো আইসিসি টুর্নামেন্টে নির্ধারিত ভেন্যুতে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়নি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন উদাহরণ অতীতেও বহুবার দেখা গেছে। এই তালিকায় রয়েছে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের মতো দেশ।
খুব বেশি দিনের কথা নয়—গত বছরের মার্চে ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজক দেশ ছিল পাকিস্তান। কিন্তু রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তানে গিয়ে খেলতে রাজি হয়নি ভারত। ফলে ভারতের সব ম্যাচ পাকিস্তান থেকে সরিয়ে দুবাইয়ে আয়োজন করা হয়।
এমন ঘটনা আরও পেছনেও আছে। ২০০৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়া। সে আসরে জিম্বাবুয়েতে খেলতে যায়নি ইংল্যান্ড। এর পেছনে ছিল তৎকালীন জিম্বাবুয়ে সরকার এবং ব্রিটিশ সরকারের মধ্যকার রাজনৈতিক বিরোধ। একই বিশ্বকাপে নিরাপত্তা শঙ্কায় কেনিয়ার নাইরোবিতে খেলতে অস্বীকৃতি জানায় নিউজিল্যান্ড।
রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে ২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকেও নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয় জিম্বাবুয়ে। সে সময় তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হয়। তবে অংশ না নিলেও জিম্বাবুয়ে আইসিসি থেকে পূর্ণ অংশগ্রহণ ফি পেয়েছিল।
আরও আগে, ১৯৯৬ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকা যৌথভাবে। কিন্তু শ্রীলংকায় গৃহযুদ্ধ চলমান থাকা এবং টুর্নামেন্টের আগে বোমা হামলার ঘটনার কারণে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ কলম্বোতে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়।
সব মিলিয়ে দেখা যায়, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে আইসিসি ইভেন্টে নির্ধারিত ভেন্যু পরিবর্তন বা ম্যাচ বর্জনের ঘটনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন নয়।
মন্তব্য করুন

