বৃহস্পতিবার
০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
উপস্থাপক ও গণমাধ্যমকর্মী মৌসুমি মৌ

জামায়াত নেতার সাক্ষাৎকার নিলেই আমি শিবির, তাহলে বিএনপির সাক্ষাৎকার নিলে কী?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সাংবাদিকতা ও পেশাগত অবস্থান নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাব দিয়েছেন উপস্থাপক ও গণমাধ্যমকর্মী মৌসুমি মৌ।

সোমবার (২ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাক্ষাৎকার নেওয়াকে কেন্দ্র করে সমালোচনা করা হচ্ছে।

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘একজন জামায়াত নেতার সাক্ষাৎকার নিলেই যদি আমি শিবির হই, তাহলে বিএনপির নেতার সাক্ষাৎকার নিলে আমি বিএনপি, আওয়ামী লীগের নেতার সাক্ষাৎকার নিলে আমি আওয়ামী লীগ, আর এনসিপির নেতার সাক্ষাৎকার নিলে আমি এনসিপি। তাহলে আমার আসল পরিচয়টা কী?’

‘গত দুই দিন ধরে আমাকে “শিবির” ট্যাগ দিয়ে, ছাত্রীসংস্থার গুপ্ত সদস্য বলে নেতিবাচক পোস্ট ও অকথ্য গালাগাল দেয়া হচ্ছে। সবচেয়ে অবাক হয়েছি যখন দেখলাম এই অভিযোগ শুধু সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নয়, গণমাধ্যমে কাজ করা কিছু মানুষের কাছ থেকেও আসছে।’

‘মজার বিষয় হলো, যারা আমাকে নিয়ে এত বড় বড় সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছেন, তাদের অনেকেই সাক্ষাৎকারটি দেখার প্রয়োজনও মনে করেননি। আমি কী প্রশ্ন করেছি, কীভাবে করেছি, আদৌ কোনো কঠিন প্রশ্ন করেছি কি না, এসব জানার আগেই রায় দিয়ে দিয়েছেন। অথচ কেউ যদি পুরো সাক্ষাৎকারটি দেখেন, বিশেষ করে ২৭ মিনিট থেকে শেষ অংশ পর্যন্ত, তাহলে অন্তত বুঝতে পারবেন আমি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে নয়, একজন পেশাদার উপস্থাপক হিসেবে আমার কাজটাই করেছি।’

‘এটা অবশ্য প্রথমবার নয়। কিছুদিন আগেও আমাকে বলা হয়েছে আমি আওয়ামী লীগের দোসর। গত ঈদে যখন “ঘরের রাজনীতি” অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম, তখন বলা হয়েছিল আমি বিএনপির দালাল। এবার ঈদের অনুষ্ঠানে সাতটি পর্বের মধ্যে একটিতে জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতার এবং আরেকটিতে এনসিপি থেকে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্যের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। তাই আমি শিবির কর্মী হয়ে গেলাম। আগামীকাল বাকি পর্বটি প্রচারের পর হয়তো নতুন কোনো পরিচয়ও পেয়ে যাব।’

‘আমি গত প্রায় দশ বছর ধরে গণমাধ্যমে কাজ করছি। আমার বয়সের অর্ধেকেরও বেশি সময় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল। ফলে আমার পেশাগত জীবনের প্রায় আট বছর কেটেছে সেই সরকারের আমলে। সেই সময়ে আমি যেমন সরকারি দলের নেতাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছি, তেমনি বিরোধী দলের নেতাদেরও নিয়েছি।’

‘আমি সাক্ষাৎকার নিয়েছি বিএনপির নিলুফার চৌধুরী মনি, সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, এবিএম মোশাররফ, আমিনুল হক, হেলাল খান, রাশেদ খানসহ আরও অনেকের। সাক্ষাৎকার নিয়েছি ভিপি নূর, জোনায়েদ সাকি, ববি হাজ্জাজেরও। জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বিকল্পধারার মাহি বি চৌধুরীসহ আরও অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আমার অনুষ্ঠানে এসেছেন। তখন তো আমি জানতাম না ভবিষ্যতে কে ক্ষমতায় আসবেন, কে আসবেন না।’

‘তাহলে কি আমি তাদের সবার দলের সদস্য? এই যুক্তি মেনে নিলে দেশের প্রায় সব সাংবাদিক, উপস্থাপক এবং গণমাধ্যমকর্মীকেই কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী বলে ঘোষণা করতে হবে। কারণ আমাদের কাজই হলো বিভিন্ন মত, বিভিন্ন অবস্থান এবং বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলা। সবচেয়ে দুঃখ লাগে যখন গণমাধ্যমের মানুষও এই মৌলিক বিষয়টি ভুলে যান।’

‘আমার কাজ সাক্ষাৎকার নেওয়া। গত দুই ঈদে আমি ১৪ জন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। এদের কারো ব্যক্তিগত নম্বর পর্যন্ত আমার কাছে নেই। আমি যেমন উপমহাদেশের কিংবদন্তি রুনা লায়লা ম্যাডামের সাক্ষাৎকার নিই, তেমনি দেশের অভিনয়শিল্পী, সঙ্গীতশিল্পী, ক্রীড়াবিদ কিংবা রাজনৈতিক নেতাদেরও সাক্ষাৎকার নিই। তারা সবাই আমার অনুষ্ঠানের অতিথি। এর বেশি কিছু নয়।’

‘আরেকটি বিষয় পরিষ্কার করে বলি। কোনো অতিথিকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো বা তার সঙ্গে যোগাযোগ করার দায়িত্ব আমার নয়। সেই দায়িত্ব পালন করেন টেলিভিশন ও প্রযোজকেরা। আমার দায়িত্ব হলো অতিথির সামনে বসে প্রশ্ন করা। আর একজন পেশাদার উপস্থাপক হিসেবে আমার দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষ থাকা, ভদ্র থাকা এবং সবার সঙ্গে একই ধরনের আচরণ করা। তিনি জামায়াতের হোন, আওয়ামী লীগের হোন, বিএনপির হোন, এনসিপির হোন কিংবা জাতীয় পার্টির হোন আমার পেশাগত দায়িত্ব বদলে যায় না।’

‘একটি গণতান্ত্রিক সমাজে ভিন্ন মতাদর্শের মানুষ থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। একজন গণমাধ্যমকর্মীর কাজ কোনো পক্ষের মুখপাত্র হওয়া নয়, কাজ হলো মানুষের কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। বিভিন্ন মত, বিভিন্ন অবস্থান এবং বিভিন্ন গল্পের জন্য একটি জায়গা তৈরি করা।’

‘কোন বক্তব্য গ্রহণ করবেন আর কোনটি প্রত্যাখ্যান করবেন, সেই সিদ্ধান্ত দর্শকের। আমি গত দশ বছর ধরে সেটাই করেছি এবং ভবিষ্যতেও সেটাই করব।’

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন