

জনপ্রিয় ইসলামী সংগীত শিল্পী ওবায়দুল্লাহ তারেকের বিরুদ্ধে অন্য নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ তুলেছেন তার স্ত্রী শাহনাজ সুলতানা শাম্মী। এ অভিযোগ জানিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার (২ জানুয়ারি) একটি স্ট্যাটাসে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার বর্ণনা করেন।
এনবিপি পাঠকদের জন্য ওবায়দুল্লাহ তারেকের স্ত্রী শাহনাজ সুলতানা শাম্মীর ফেসবুক পোস্টটি তুলে ধরা হলো...
ইসলামি সংগীত শিল্পী ওবায়দুল্লাহ তারেককে নিয়ে আমার শেষ ও চূড়ান্ত বক্তব্য আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
অনেক দিন চুপ ছিলাম। সহ্য করেছি, ধৈর্য ধরেছি, সংসার বাঁচানোর জন্য মানুষের দরজায় দরজায় ঘুরেছি। আজ এই পোস্টটি লিখছি কোনো প্রতিশোধের জন্য নয়।
শুধু সত্যটা স্পষ্ট করে রেখে যাওয়ার জন্য। আমি শাহনাজ সুলতানা শাম্মী।
বাংলাদেশের পরিচিত ইসলামি সংগীত শিল্পী ওবায়দুল্লাহ তারেকের স্ত্রী—বর্তমানে প্রথম স্ত্রী। আমাদের দাম্পত্য জীবনের বয়স ১৯ বছর।
আমাদের আছে এক ছেলে ও এক মেয়ে।
এক সময় আমাদের একটি সুখী সংসার ছিল। ছিলো! হ্যা ছিলো এখন আর নেই..আমার সুখের সংসারে এখন অন্য সুখের বসবাস!
আজ সেই সংসার ভাঙা, সন্তানরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, আর আমি দাঁড়িয়ে আছি এক নির্মম বিশ্বাসঘাতকতার সামনে। আমাদের বৈবাহিক জীবনের শুরুটা ছিল ভালোবাসা দিয়ে পূর্ণ।
তখন ওবায়দুল্লাহ তারেক ছিল একজন সাধারন ছাত্র —না অর্থ, না অবস্থান—আমি তখন তার চোখে ভালোবাসা দেখেছিলাম।
ভেবেছিলাম, একসাথে কষ্ট করলে একসাথেই সুখ আসবে। বিয়ের পর ও আমি অপেক্ষায় থাকি কবে আমার ছোট এক রুমের একটা সংসার হবে।নিজের মতো সাজিয়ে গুছিয়ে নিবো।কিন্তু সে অপেক্ষার পালা ছিলো আমার জন্য অনেক দীর্ঘ! এতো কিছুর পর ও আমাদের ভালোবাসার কোন কমতি ছিলো না জীবনে।আমাদের সকল কস্টের মূলে ছিলো দুজনের এক হওয়া।অনেক সময় গড়ানোর পর আল্লাহর রহমতে, তার পরিশ্রমে সে একটু একটু করে প্রতিষ্ঠিত হতে লাগলো আর আমার স্বপ্নের দুয়ার খুলতে লাগলো।এই তো আমার স্বপ্নের সংসার দেখা দিলো বুঝি!!
নিজের সংসারের লোভে কত বিলাসিতা বাদ দিয়েছি,কত আদিখ্যেতাকে দূরে ঠেলে দিয়েছি তার কোন হিসেব নেই।আমার যুদ্ধ ছিলো ঘরে আর তার বাইরে।যখন সে একটু একটু করে নাম কামাতে লাগলো,তাকে না পাওয়াটাও আমার শুরু হলো।সে ব্যস্ত থাকতো গানের প্রোগ্রাম নিয়ে আর আমি সংসার, বাচ্চা সামলানো নিয়ে। দিন শেষে খুব অনুভব করতাম আহা আমার কাছের মানুষটা যদি আমার কাছে ই থাকতো। মাঝে মাঝে সময় না দেওয়াতে তার উপর সেই ভিষণ অভিমান করতাম।সে আগলে নিয়ে বট বৃক্ষের মতো ছাঁয়া দিয়ে বলতো।তোমাদের জন্য ই তো কস্ট করি। এই তো আর কয়টা দিন কস্ট করো এরপর ই তোমার সুখের দিন।মাথার উপরে একটা নিজস্ব ছাদ করে ই আমি কাজ কমিয়ে দেবো।এরপর বুড়ো, বুড়ি নিজের ঘরে বারান্দায় বসে চা খাবো আর তোমাকে গান শোনাবো। আমি ও লজ্জা পেয়ে যেতাম,আহা! মানুষটা তো আমাদের জন্য ই কস্ট করে আর আমি ই কিনা তাকে অভিযোগের তীর বিধঁছি!?
আল্লাহর রহমতে আমাদের নিজস্ব ছাদ হলো।কত কত বছরের অপেক্ষার ফল এই তো আমার নিজস্ব সংসার আমার স্বামী আল্লাহর দয়ায় আমাকে দিলো।একটু একটু করে নিজের মনের মতো করে সাজালাম আমার সংসার।কতো আদরে আবদারে খুনসুটিতে গড়া আমার সংসার!!
আমার স্বপ্ন পূরণ হলো—ভাবতাম।
কিন্তু তখনই শুরু হলো আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অধ্যায়। এক বছরের পরকীয়া, অসংখ্য মিথ্যা
আমি অনুভব করতে শুরু করলাম—আমার স্বামী অন্য এক নারীতে আসক্ত। বিশ্বাস করতে চাইনি।
১৯ বছরের সংসারে এমন কিছুর কল্পনাও করিনি। প্রমাণের পর প্রমাণ, ধরা পড়ার পর ধরা পড়া— আর প্রতিবার একই কথা:
“আমি ভুল করেছি, আর হবে না।” আমি কাউকে জানাইনি। সংসারের সম্মান বাঁচাতে নিজেকে ভেঙেছি।
প্রথমে মনে হয়েছে আমার মনের ভ্রম হয়তো।নাহয় কেন সে এই কাজ করতে যাবে?
আমি তো অপূর্ণ রাখিনি।দুটো সন্তান,মাথার উপর ছাদ,আল্লাহর দেওয়া সম্মান,আমাদের পরিপূর্ণ ভালোবাসায় মুখরিত ছিলো আমার সংসার। তাহলে? তাহলে কেন সে অন্য নারীতে আসক্ত হবে।এছাড়াও সে দ্বীনের দায়ী, দ্বীন সম্পর্কে তার জ্ঞান অনেক বেশি সে কেন এই ভুল করবে? আমি বারবার শিওর হই তাও পাগলের প্রলাপের মতো বুঝ দেই শাম্মি ১৯ বছরের সংসারে কি কখনো দেখেছি সে এমন করেছে? কখনো কি তোদের সিরিয়াস কোন ঝগড়া হয়েছে? কখনো বোঝাপড়ায় সমস্যা হয়েছে? তাহলে সে পরকীয়ার মতো ঘৃণ্য কাজ কেন করবে?উত্তর পেতাম না।এক সময় তাকে জিজ্ঞেস করলে সে মিথ্যা বলে ভুলিয়ে রাখে।এক দিকে স্বামীর সম্মান অন্যদিকে ভালোবাসার মানুষকে হারানোর ভয়ে আমি পাগল প্রায়। কি করবো কি করা উচিৎ তা জানা নেই। তারপরও রবের ভরসায় একবুক আশা নিয়ে ছিলাম যে সে হয়তো ভুল করেছে ফিরে আসবে।দিন যায় মাস যায় তার পরকীয়ার আসক্তি ও বাড়তে থাকে।প্রমাণ সহ তাকে জিজ্ঞেস করলে সে তখন বলে সে ভুল করেছে আর ও পথে হাটবে না।
আবার তাকে বিশ্বাস করেছি।কাউকে বুঝতেই দেইনি আমাদের জীবনে কি চলছে।কিন্তু আমার বিশ্বাস বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।আবার সে হাতেনাতে ধরা পরলো।আবার সেই এক ই কথা!আবার আমার বিশ্বাস।এভাবে চলতে চলতে এক সময় যখন জানতে পারলাম ২১/২২ বছরের এক মেয়ের সাথেই তার সম্পর্ক চলছে তখন ভাবলাম না আর তো হয়না। আমি প্রথমে মেয়েটির সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম কোন পরিস্থিতিতে আমি রয়েছি। একবার দুবার নয় অগণিত বার আমি মেয়েটাকে বুঝানোর চেষ্টা করছি আবার আমার স্বামীকে বুঝানোর চেষ্টা করছি। কখনও সে বুঝতো এবং পরেই আবার ওই একই বক্তব্য "শাম্মী আমি ভুল করেছি" শুধু তাই নাহ তার এই কথার সঙ্গেই বিভিন্ন সংকেত পূর্ণ কথাও সে আবার জুড়ে দিতো যেমন কখনও বলতো "এই পথ থেকে ফিরে আশা সম্ভব নয় ", আবার কখনও বলতো " তুমিতো মেনে নিলেই পারো ও গোপনভাবেই থেকে যাক ", আবার বলতো তাকে ব্ল্যাকমেইল করছে বিধায় সে যোগাযোগ রাখে, মেয়েটি নাকি ইয়াতিম আর খুউব পর্দানশীন খাস পর্দা করে আরও বলতো কোনো সর্ম্পকই নেই শুধু ওই মেয়েটির কথা শুনতে ভালো লাগে । এমন আরও কতকিছু বলতো আর আমি ভাবতাম সে ভুল করেছে ফিরবে, সে ফিরবে আমি চেষ্টা করতে থাকলাম মেয়েটিকে বোঝাতে গেলে সে আমাকে বিভিন্ন সুশীল ভদ্র ভাষায় রুক্ষ ব্যবহার করতে থাকতো। আর বলতো আমি হাওয়ায় ভাসছি নাকি! আমি তারেকের বউ হতে চলেছি।
এরপর আমি মেয়েটির বাবাকে জানাই এবং উনার মেয়েকে আটকাতে অনুরোধ করি। তিনি তো বিশ্বাস করতেই চাননি তবুও ভরসা দিয়েছিলেন তিনি কখনই মেনে নিবেন না এই সম্পর্ক। তিনিও আমাকে বারংবার একই কথা বলেছেন যে এই সম্পর্ক কখনই তিনি মানবেন না। আমার বাবার সঙ্গে, সংগঠনের দায়িত্বশীলদের সাথেও কথা বলেছিল, তিনি বলেছেন কখনই তার মেয়ের এমন সম্পর্ক তিনি মানবেন না আর বাবার অনুমতি ছাড়া বিয়ে হালাল হয় না। এভাবেও তাদেরকে আটকানো গেলো না। অতঃপর আমি জামায়াতকে তার দায়িত্বশীলদের কাছে জানালাম সব কিছু।তারা তো বিশ্বাস ই করতে চায়নি প্রথমে।কারণ ওবায়দুল্লাহ তারেক এমন এক ভালোমানুষির মুখশ পরে রেখেছে যে প্রমাণ ছাড়া সহজে কেউ ই বিশ্বাস করতে পারবে না।
ওই মেয়ের বাবা আমাকে,আমার পিতাকে,সংগঠনের দায়িত্বশীলকে বারবার আশ্বাস দিয়েছিলেন অথচ কিছুদিন পরেই জানতে পারি রোব বাংলাদেশে ওই মেয়ে ও তার বাবাকে নিয়ে অনেক আয়োজন আপ্যায়ন করা হয়েছে। আসলে ওই মেয়ের বাবা তার হবু জামাতা তার মেয়ে যার দ্বিতীয় স্ত্রী হবে সেই লোকের বিষয় সম্পত্তি দেখতে গেলেন যার প্রতিটা সৃষ্টি আমার কোনো না কোনো ত্যাগের সাথে সম্পৃক্ত। এমনকি আমার স্বপ্নের সংসার আমার বাসায় ও নিয়ে গেলো ওই মেয়ে আর তার বাবাকে দেখাতে যে ওবায়দুল্লাহ তারেক কেমন বাসায় থাকে।
তারা ৩ জন মিলে এমন ধোকার জাল বাধলো। বাবা বলে আমি মানবো না কিছুদিন পর মেয়ে বলে বাবা আমাকে জোড় করে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে আপনি আটকান আবার ওবায়দুল্লাহ তারেক বলে আমাকে বিয়ে করবেনা মানে করতেই হবে। তারা ৩ জন ছিনিমিনি খেলতে শুরু করলো।
ওই মেয়েকে যখন বললাম যে তোমার বাবার সঙ্গে কথা হয়েছে সে তো তোমাদের বিয়েতে মত দিবে না মানবে না এই সম্পর্ক ওই মেয়ে আমাকে উত্তরে বলল আমার বাবার সঙ্গে যে আপনি এতো কথা বলেছেন, সেতো বেগানা পুরুষ তো আপনি তাহলে আমার বাবার সঙ্গে পরকীয়া করছেন। এক সুশীল ধার্মিক খাস পর্দানশিন মেয়ের নিজেকে সঠিক প্রমাণ এর কৌশল। অথচ সে পরকীয়ায় লিপ্ত।
দায়িত্বশীলদের শাসন, আমার অনুরোধেও সে দমে থাকেনি সে যেনো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলো। এক সময় সে আমাকে দাম্ভিকতার সাথেই বলে দিলো সে ঐ মেয়েকে ছাড়তে পারবে না। আমি অসহায়ের মতো বললাম তুমি এই হারাম সম্পর্কে থেকো না।যদি এই মেয়ে তোমাকে কোন ট্রাপে ফেলে তুমি আমাকে সব খুলে বলো আমি সবাইকে স্বাক্ষ্য দিবো,আমি তোমার পাশে থাকবো। কিন্তু সে আগের মতই কথার খেলা খেলতে থাকে আমার সহিত। অনেক কাহিনীর পর আমি অভিমান করে বাবার বাড়িতে আসি। ভেবেছিলাম আমার অভিমানে এবং শূন্যতায় হয়তো সে তার ভুল বুঝতে পারবে। এরপর অনেক কাহিনী অনেক কিছু হয়ে গিয়েছে।এতো কিছু লেখাতো সম্ভব না।মূল কথায় আসি,একসময় যখন দেখলাম কোন কিছুতে ই কাজ হচ্ছে না তখন তার ফ্যামিলি আমার ফ্যামিলিকে জানালাম।তার ফ্যামিলি থেকে কোন সাপোর্ট তো পেলাম ই না উলটো শুনতে হলো আমার ই নাকি সমস্যা, তাদের ছেলে কোনো নারীর সাথে সম্পর্ক করতেই পারেনা! সে নাকি এই নারীর সাথে কথা বলে ইলহাম স্কুল পরিচালনা করতেন। আস্তে আস্তে তার চারিত্রিক এই দোষ অনেকে ই জানতে পারলো।অনেকেই আমাকে সহমর্মিতা দেখালো।তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ কিন্তু বিশ্বাস করেন আমি সব কিছুর উপরে চেয়েছিলাম আমার স্বামীকে,আমার সংসারটা!কিন্তু আল্লাহ আমার রিজিকে রাখেনি। কিছুদিন পর সে এসে আমার বাবার কাছে ওয়াদা করে আমাকে নিয়ে গেলো যে এই ভুল আর হবে না সবার সামনে সে ওয়াদা করলো মাফ চাইলো। সংগঠনের কাছে ওয়াদা করে, এ সম্পর্ক থেকে বের হয়েছে বলে আমাকে নিয়ে গেল।এমনকি অক্টোবরে সংগঠনের কাছে লিখিত মুচলেকা দিল এই সম্পর্ক থেকে সে বের হয়ে গিয়েছে।
আমিও খুব সুন্দর মনে নিজের সংসারে ফিরলাম মনকে বুঝিয়ে নিলাম ভুল করেছিলো আজ থেকে আবার সব ঠিক হবে ইনশাআল্লাহ দুজন মিলে সুখে দিন কেটে যাবে।
হয়ত ১২ দিন ছিলো আমার সেই সুখের ভ্রান্ত ধারনা। আবার সে ধরা পরলো তার কাছে লুকানো ফোন আর সেই মেয়ের সাথে আবার যোগাযোগ। সে ওয়াদা করেছিলো বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক থেকে বের হওয়ার কিন্তু সে সম্পর্ক থেকে বের হয়নি শুধু কৌশল টা চেঞ্জ করেছিল। এবার আমি আর কিছু বলার জন্য খুঁজে পেলাম না।
আমি আমার সামনে থাকা সব পথেই হেটেছি তাকে ভালোবেসে বুঝিয়ে, রাগ করে বুঝিয়ে, পরিবার দ্বারা বুঝিয়ে, সন্তানের জন্য বুঝিয়ে, ওই মেয়েকে বলে,সংগঠনের দায়িত্বশীলদের দিয়ে,এমনকি মেয়ের বাবাকে বলে। কোনো পথ আর খোলা নেই। যেদিন সে সেই ফোন নিয়ে ধরা খায় সেদিন সে আমায় বলে,এ সম্পর্ক থেকে সে বের হবে না এটা জেনেও আমি যেন চুপ করে থাকি। তার মায়ের শরীর খারাপ বাড়ি যেতে হবে বলে বাধ্য করে আমায় পাবনা আসতে।আমি তার দুই পা ধরে চিৎকার করে কান্না করে বলেছিলাম তুমি আমার সংসার কেড়ে নিও না।তুমি ওই মেয়ের থেকে সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসো। কিন্তু তারা দুজনের কেউই এ সম্পর্ক থেকে বের হবে না। এরপর আমাদের কে নিয়ে যায় তার বাড়িতে গিয়ে দেখি তার মা সুস্থ একটু প্রেসার এর সমস্যা হয়েছিলো। সত্যি কি মিথ্যা জানিনা। এরপর আমাকে আমার সন্তান সহ আমার বাবার বাড়ি রেখে আমাদেরকে না জানিয়ে সে ঢাকা চলে যায়। আমাকে নিজ হাতে রেখে গেল বাবার বাড়ি।আর ওই মেয়েটা আমায় মেসেজ দিয়ে বলে যে, স্বামীকে ছেড়ে ভেগে গেছেন।
দিন গড়ায় আর সেই মেয়ের প্রতি আসক্তি তার বৃদ্ধি পায়।১৯ বছর নির্ভেজালভাবে সংসার করার পর ও স্বামীর মুখ থেকে শুনতে হয় আমি নাকি তার জন্য পার্ফেক্ট না। ঐ মেয়ে তার মনের মতো। এতদিন সে যেমন মেয়ে চেয়েছে ঐ মেয়ে তেমন। সেই মেয়ে দ্বীনদার,দ্বীনের জ্ঞান তার অগাধ।সেই মেয়ে বলে,আমি তারেককে বিয়ে করে তারেকের সাথে ইসলাম প্রচার করব। আপনারা বুঝতে পারছেন আমি স্ত্রী হিসেবে এমন কথা শোনার পরে কি অবস্থা?আমি তাকে হাতে পায়ে ধরেছি,সবার দারে দারে ঘুরেছি শুধু মাত্র আমার সন্তানদের পরিচয় ধরে রাখার জন্য, আমার ভালোবাসার সংসারটা টিকিয়ে রাখার জন্য কিন্তু সকল অভিনয়ের সমাপ্তি করে দীর্ঘ এক বছর পরকীয়া করে সে গত ২০ নভেম্বর তার পরকীয়ার সঙ্গীকে বিয়ে করে তার হারাম সম্পর্ককে হালাল রুপ দিয়েছে।
তার বাবা মা ও পরিবারের সবাইকে এমন ভাবে বুঝিয়েছে যেন তারা বিয়েতে সম্মতি দেয় এবং তাদেরকে আমার বিরুদ্ধে নানান মিথ্যা অভিযোগ করে আমাকে দোষী করেছে কেবলমাত্র এই বিবাহের সম্মতি পাওয়ার জন্য।তার পিতা মাতা সন্তানের অন্যায় কে গোপন করার জন্য বিয়েতে সম্মতি দেয়। অবৈধ সম্পর্ক থাকা কালীন তার পরিবারের সকলে ওই মেয়ের সাথে ফোনালাপ করতো নিয়মিত ছেলেকে খুশি করার জন্য।
যখন আমার বাচ্চাটা বাবার বিয়ের কথা শুনে চরম অসুস্থ।আবার আমার বাচ্চার অসুস্থতা নিয়ে তার সদ্য নববধু আমাকে কটুক্তি করেছিলো আমি নাকি সিম্পেথি আদায় এর গেম খেলছি,আমার বাচ্চাকে দিয়ে মাতম করছি ।সেই মেয়ে আমার স্বামীর রক্ষিতা থাকা অবস্থায় ই আমাকে যেসব ভাষায় অপমান, অপদস্ত করেছে তার সকল প্রমাণ আমার কাছে আছে এবং আমার স্বামীকে ও দেখিয়েছি কিন্তু তার তাতে কিছুই আসে যায় না।তখন তার বিবাহিত স্ত্রীর থেকে পরকীয়ার প্রেমিকার প্রতি আসক্তি বেশি এমনকি সেই মেয়ে আমাকে বলে যে আপনি কে তারেক এর বিষয়ে কথা বলার আমি তারেক এর লিগ্যাল বউ হতে চলেছি আপনাকে তারেক রাখবে কি না সেটা ও বুঝবে আপনি কে তারেক এর লাইফ নিয়ে কথা বলার!! সর্ব শেষে আমি একটা রিকোয়েস্ট করেছিলাম চলো আমরা পরিবারের সবাই মিলে ওমরা পালন করে আসি এবং তুমি অবৈধ সম্পর্ক থেকে ফিরে আসো আমাদের সংসারটা আগের মতো করে নেই কিন্তু তার মন টা তো আর সংসারে ছিলো না। অথচ সেই মেয়েটা কতটা অনায়াসেই বলে ফেলে যে আপনার সংসার করার ইচ্ছা নেই আপনি নাটক করছেন। যে ইলহাম ইসলামিক স্কুল দুজন স্বপ্ন নিয়ে শুরু করেছিলাম সেখানেই সে তার পরকীয়ার প্রেমীকাকে নিয়ে গিয়ে তার ই চেয়ারে বসিয়েছে।যে সংসার আমার হাতে গড়া সেই সংসার থেকে আমাকে নামিয়ে সেই মেয়েকে উঠিয়েছে,আমার সাজানো বিছানা এখন সেই মেয়ের বাসর।তার সাথে ঘুরে বেড়ানোর জন্য কত প্রতিক্ষা ছিলো আমার এখন শুনছি সে সেই মেয়েকে নিয়ে কখনো সিলেট কখনো বিভিন্ন প্রোগ্রামে যাচ্ছে।আমার ই এক পরিচিতকে কল করে বলে শাম্মীর জন্য শুভ সংবাদ আছে কয়দিন পর এবং তার পাশে বসে তার নববিবাহিতা হেসে কুটিকুটি হয়ে যাচ্ছে।এমন কোন পন্থা নেই যা সে করেনি আমাকে কস্ট দেওয়ার জন্য!
আমি অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু হেরে গিয়েছি।হয়তো আমার রব ই আমার জন্য এটা কল্যাণজনক করেছেন।আমি কখনো ই প্রতিহিংসা পরায়ণ হতে চাইনি।সব কিছু ভুলে যখন নিজের জীবন গুছিয়ে নিচ্ছিলাম তখন শুনি সে আমার নামে অপবাদ দিচ্ছে- ১.আমি নাকি তার ফ্লাট লিখে নিতে চেয়েছি তাই চলে আসছি,অথচ এই সব কাহিনী করার পর দায়িত্বশীলদের চাপে সে আমাকে ফ্লাট লিখে দিতে চেয়েছে। কিন্তু স্বামীহীন ফ্লাট নিয়ে আমি কি করবো? আমার জন্য ভালোবাসা, বিশ্বাস তো কোন বিজনেস ছিলো না যে সওদা করবো তার বিনিময়! আমি নাকোচ করে দিয়েছি।
২. আমি তার চাহিদা পুরণ করতে পারিনা তাই সে বিয়ে করেছে।এ নিয়ে আসলে আমি কিছুই বলতে চাচ্ছিনা আমার আত্মসম্মানে বাধে! ৩.আমি তার বাবা,মাকে দেখিনা।অথচ আমার শশুর বাড়ি সেই কখনো নিয়ে রাখতে চাইতো না।আর তাদের কাছে গিয়ে থাকা ছাড়া আর সব ধরনের দায়িত্ব আমি পালন করতাম এবং তাদের সাথে আমার সুসম্পর্ক ছিলো। ১৯ বছরে কখনো কোনদিন ঝামেলা হয়নি। ৪. সে হালাল ভাবে তার প্রয়োজনে ২য় বিয়ে করেছে।হ্যা ইসলামে ২য় বিয়ে করা যায়েজ কিন্তু তার যে কত নিয়ম কানুন আছে তা কি তার জানা নেই? দ্বিতীয় বিয়ের দরজায় একজন দারোয়ান আছে "ইনসাফ" এটা কি তার জানা নেই! অবৈধ সম্পর্ক থাকা অবস্থায় সে আমার, আমার সন্তানদের উপর যে জুলুম করেছে তার থেকে ইনসাফ আশা করা যায়!! অহ সে তো আবার নতুন ইসলাম জন্ম দিয়েছিলো যে ইসলামে বউ থাকতেও অন্য মেয়েকে মনে মনে বউ মনে করে তার সাথে সব করা যায়!
৫.আমি নাকি বাচ্চাদেরকে দিয়ে,তার বাবাকে ইমোশনাল করি, আমি নাকি যোগ্য মা, যোগ্য স্ত্রী হতে পারি নাই।সেই নারী আমাকে উপহাস করে বলে, স্বামীর পা ধরে সংসার করেন বাসায় গিয়ে, এটা জেনেও যে,সে ঐই নারীর সাথে সম্পর্কে লিপ্ত।ভালো বউ স্বামীর ঘর ছেড়ে থাকে না, স্বামী যতই জুলুম করুক না কেন! বাচ্চাদের দিয়ে কথা বলিয়ে,বাচ্চাদের ভিডিও দিয়ে তারেক এর উপর জুলুম করছি এমন বক্তব্য তার মনের মত নববিবাহিতা চঞ্চলা ধার্মিক স্ত্রী এর।
স্ত্রী হিসেবে না হয় তার চোখে আমি ব্যর্থ কিন্তু সন্তানদের অনুভূতি ও তার কাছে ঠুনকো? সন্তানদের তার বাসায় না রাখলে সে তাদের দায়িত্ব নিবেনা বলে ইন্ডিরেক্টলি ইঙ্গিত দিচ্ছে।এমন এক পরিবেশে কি তাদের সুস্থ বিকাশ আশা করা সম্ভব? তাদের বাবা এক নতুন নারীকে নিয়ে সংসার পাততে ব্যস্ত, তার চলনে বলনে শুধুই সেই নারী।এতে এই বাচ্চাদের মানসিকতায় কোনো প্রভাব ফেলবে না? আর বিয়ে জায়েজ তবে সেই বিয়ে কোনো লালসা বা মনের খায়েস মেটাবার জন্য করা হলে সেখানকার পরিবেশ কি বাচ্চাদের জন্য উপযোগী। তার ইসলাম কি তবে তাকে এমন টাই শিখিয়েছে?
৬.তার পরিবারের লোকজন বলছে আমি অসুস্থ ছিলাম বিছানায় পরে থাকতাম উঠতে পারতাম না অনেক অসুখ আমার। এজন্য সে বিয়ে করেছে। এইকথা সেও বলে সকলকে। অথচ আমি শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত ছিলাম।
এই মুহুর্তে আমাকে যেভাবে সম্ভব মিথ্যা দোষারপ করে তার এই দ্বিতীয় বিয়ের জন্য দায়ী করা হচ্ছে। অথচ ২ টা সিজারিয়ান সন্তান জন্ম দেওয়ার পর তাদের লালন পালনের পর বয়স ৩০ এর ঘর পা দেওয়ার পর মেয়েদের শারীরিক মানসিক যে পরিবর্তন হয় এই স্বাভাবিক বিষয়টাকে সে কিভাবে দায়ী করতে পারে! আমিও তো কখনো ২০ /২১ বছর বয়সী ছিলাম তখন তার এত বিলাসবহুল জীবন যে ছিলো না।
আপনাদের সবার কাছে আমার প্রশ্ন, দীর্ঘ এক বছর পরকীয়ার মতো হারাম রিলেশন করেছে আর মুখে ইসলামের ফুলঝুরি ছড়িয়েছে।এরপর সামাজিক চাপে পরে বিয়ে করে হালাল হালাল করে মুখে ফেনা তুলছে এগুলো কোন ইসলামে জায়েজ? টিনেজ ছেলেপেলের মতো আলাদা ফোন কিনে চুরি করে প্রেমের আলাপ সেরে জুতার র্যাকে ফোন লুকিয়ে রেখে দিব্যি ভালো স্বামীর মতো সংসার করে যাওয়াটাকে কোন ইসলাম জায়েজ করেছে? যে বউকে মাঝ রাস্তায় একলা ছেড়ে দিয়েছে সেই বউ এর নামে নিজেকে বাচাঁনোর জন্য মিথ্যা অপবাদ দেওয়া কে জায়েজ করেছে?অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত থেকে অন্যের স্বামীকে জান বলে সম্বোধন করা এটাই কি দ্বীনদারীর লক্ষণ? বউকে ভুলে গিয়েছে কিন্তু সন্তানদের ও কোন খোঁজ রাখে না এমন বাবাকে কোন ইসলামে জায়েজ করেছে? দিনের পরে দিন মিথ্যা বলা কোন ইসলামে জায়েজ করেছে? আপনাদের কাছে আমার একটা প্রশ্ন, স্ত্রী দুই সন্তান থাকার পরও বয়স্ক একটা পুরুষের সাথে ১৫ মাস জেনে শুনে সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়া কি দ্বীনদার নারীর লক্ষণ !?
দীর্ঘ ১৯ বছরের সংসারের কথা আর প্রায় দেড় বছরের বিশ্বাসঘাতকতা আমি এক পোস্টে লিখে শেষ করতে পারবো না, আপনাদের বোঝাতেও পারবো না আমার উপরে কি কি হয়েছে, কতটা সহ্য করেছি আমি।আমি আমার সন্তানরা পনেরো মাস অপেক্ষা করেছি সে ফিরে আসবে,আমাদের সংসারে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে সেই নারীকে ভুলে,কিন্তু সে ফিরে আসেনি। আর মানুষরুপী অমানুষ আপনাদের প্রিয় ওবায়দুল্লাহ তারেক এর আসল রুপ কি!আমি আর চাই ও না তাকে নিয়ে একটা টুঁ শব্দ করতে। আমি আজ থেকে তার নামটা ভুলে যাবো।আশা করি আপনারা ও আমার অবস্থান বুঝতে পারবেন।
দীর্ঘ এক বছর আমি সকলের দরজায় ঘুরেছি সংসারটা টেকানোর আশায়। অনেকেই তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন আমাদের সংসারটা ঠিক করার জন্য। তাদের প্রতি আমি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো।যারা আমাকে সাপোর্ট দেননি তাদের প্রতি ও কোন অভিযোগ অনু্যোগ নেই।যারা নিষেধ করেছেন উনাকে তাদের সাথে তো উনি সম্পর্ক মোটামুটি রাখেই নাই। আর অনেকেই এই ঘটনাকে প্রশ্রয় দিয়েছ তাদের নাম নাই বা বললাম তবে তাদের জন্য এতটুকুই বলবো যে হাশরের ময়দানে আল্লাহ হিসাব চাইলে কিভাবে হিসাব দিবেন তা তৈরী করে রাখিয়েন।একটা জুলুমের সহযোগী তো আপনারাও হলেন। সকলের হিসাব হাশরেই হবে আল্লাহ কাউকে ছাড় দিবেন না। আর দুনিয়ায় আমার কাউকে কিছু বলার নেই যেখানে আমার নিজের মানুষ ই নিজের রইলো না সেখানে দূরের মানুষ আর কি!?
এখানে শুধু একজন স্ত্রী হিসেবে নয়, দুটো নিষ্পাপ শিশুর শৈশব ধ্বংস হয়েছে। আমার ছোট মেয়ে—মাত্র ৬ বছর বয়স। এই বয়সে একটি শিশুর পৃথিবী হওয়ার কথা খেলনা, গল্প আর নিরাপত্তায় ভরা। কিন্তু সে খেলতে খেলতেই হঠাৎ বলে ওঠে— “আমি কখনো বিয়ে করবো না। ছেলেরা বিয়ে করলে বাবার মতো আরেকটা মেয়ে বিয়ে করবে।” একটি শিশুর মুখে এই উপলব্ধি আসা মানে কী? সে কি ইসলাম শিখেছে? নাকি সে শিখেছে পুরুষের বিশ্বাসভঙ্গ? এই বয়সে একটি মেয়ের মাথায় “বিয়ে মানেই ছেড়ে যাওয়া”— এটা কি স্বাভাবিক? নাকি বাবার কাজটাই তার অবচেতন মনে এই ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছে? আর আমার ছেলে—শাফিন, ক্লাস ফাইভে পড়ে। বয়স মাত্র ১২। যে বয়সে একটি ছেলের সবচেয়ে বড় শক্তি হওয়া উচিত বাবার পরিচয়। কিন্তু সে বলেছে— “১২ বছর বয়সে আমি যে কষ্টটা পেয়েছি, পৃথিবীতে হয়তো এর চেয়ে বড় কষ্ট আর কখনো কোনদিন পাবো না। বাবা যদি কাউকে খুন করেও ফিরে আসতো, আমি বলতে পারতাম—আমি খুনির ছেলে। কিন্তু যে কাজটা করেছে, তার পরিচয় আমি কখনো দিতে পারবো না।” এই কথা কোনো উপন্যাসের নয়— এটা একজন জীবিত সন্তানের আর্তনাদ। আজ সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। হঠাৎ হঠাৎ তার নাক দিয়ে রক্ত পড়ে। ডাক্তারের কাছে দৌড়াচ্ছি— কারণ তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেছে, কিন্তু ইনসাফ করেনি। এবার ইসলামের কথা বলি অনেকে বলছেন— “ইসলামে তো দ্বিতীয় বিয়ে জায়েজ।” হ্যাঁ, জায়েজ। কিন্তু শর্তসাপেক্ষে। ইসলামে দ্বিতীয় বিয়ের দরজায় একজন প্রহরী দাঁড়িয়ে থাকে— তার নাম ইনসাফ (ন্যায়বিচার)। কুরআন স্পষ্ট করে বলেছে— “যদি তোমরা ইনসাফ করতে না পারো, তবে একটিতেই সীমাবদ্ধ থাকো।” প্রশ্ন হলো— পরকীয়ায় লিপ্ত থাকা অবস্থায় বিয়ে কি ইনসাফ? স্ত্রীকে মিথ্যা বলে, লুকিয়ে ফোন রেখে, গোপনে সম্পর্ক চালানো কি ইনসাফ? স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে ফেলে রেখে সন্তানদের খোঁজ না নেওয়া কি ইনসাফ? সন্তানদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে নতুন সংসার সাজানো কি ইনসাফ? ইসলামে দ্বিতীয় বিয়ে লালসা পূরণের লাইসেন্স নয়। এটা কোনো “মনের খায়েশ”-এর বৈধতা নয়। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা— ইসলামে কোথাও লেখা নেই যে “একজন পুরুষ তার সন্তানদের মানসিক নিরাপত্তা ধ্বংস করতে পারবে।” একজন বাবা যদি নিজের সন্তানের চোখের পানি উপেক্ষা করে, স্ত্রীর আর্তনাদ উপেক্ষা করে, তবে সে কিসের দ্বীন কায়েম করছে? শিশুদের উপর জুলুম অনেক ভাবে— “বউ সামলাতে পারেনি।” কিন্তু প্রশ্ন হলো— শিশুরা কী দোষ করেছিল? তারা কি দ্বিতীয় বিয়ে চেয়েছিল? তারা কি বাবাকে হারাতে চেয়েছিল? তারা কি মানসিক রোগী হতে চেয়েছিল? ইসলামে এতিমের চোখের পানি পর্যন্ত ভয়াবহ। আর এখানে একজন বাবা নিজের সন্তানদেরকে জীবিত অবস্থায় মানসিক এতিম বানিয়েছে। শেষ কথা আমি স্ত্রী হিসেবে হয়তো তার চোখে ব্যর্থ। কিন্তু একজন বাবা হিসেবে তার ব্যর্থতা আজ তার সন্তানরাই ঘোষণা করছে। এই সন্তানেরা একদিন বড় হবে। সেদিন তারা প্রশ্ন করবে— “বাবা, আপনি তখন কোথায় ছিলেন?” সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব আজ তারই। আমি কাউকে বিচার করছি না। আমি শুধু বলছি— ইসলামের নামে করা জুলুম, জুলুমই থাকে— তা যত সুন্দর নামেই ডাকা হোক না কেন। শাহনাজ সুলতানা শাম্মী
মন্তব্য করুন